গোমাংস ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করব না, হাওড়ায় ধর্মঘট জোমাটো কর্মীদের..

অনলাইনে ফুড অর্ডার নেওয়া সংস্থা জোমাটোর কথা আমরা সবাই জানি। বেশ কয়েকদিন ধরে জোমাটো  খবরের শিরোনামে আসছে। এবার এই সংস্থা রাইডার দের বিক্ষোভের মুখে পড়ল। ঈদের আগে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছে জোমাটোর রাইডাররা। তাদের দাবি যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তারা গরু ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করবে না।হাওড়ার ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ দের দাবি, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোমাটোসংস্থার জোর করে তাদেরকে গোমাংস এবং শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করতে বলা হচ্ছে।

তাই তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছে।
জোমাটোর ডেলিভারি বয়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কাউকে জোর করে ধর্মবিরোধী কোন কাজ করাতে পারে না কোনো সংস্থা। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই নিয়ে পদক্ষেপ করব।’ জোমাটোর এক খাবার সরবরাহ কর্মী জানান, বেশ কতকগুলি মুসলিম রেস্তোরাঁকে এই সংস্থা সংযুক্ত করছে, যারা গোমাংস ও শুয়োরের মাংস বিক্রি করছে।

 

সেই খাবার নিতে পাঠানো হচ্ছে হিন্দু ডেলিভারি বয়দের এবং শুয়োরের মাংস নিতে পাঠানো হচ্ছে মুসলিম ডেলিভারি বয়দের। তাই এর প্রতিবাদে সোমবার থেকে ধর্মঘটে নেমেছেন জোমাটোর ডেলিভারি বয়রা। বেশ কয়েকদিন আগে জমাটোর মুসলিম ডেলিভারি বয়ের হাত থেকে খাবার নিতে অস্বীকার করে এক হিন্দু গ্রাহক। এরপরে এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা অমিত শুক্লা জোমাটোতে খাবার অর্ডার দেন এবং তার খাবার দিতে আসে অহিন্দু ডেলিভারি বয়। এরপর তিনি সেই খাবার না নিয়ে ফিরিয়ে দেন এবং টুইট করে লিখেন, ‘ হিন্দু রাইডার না আসায় খাবার রিটার্ন করলাম।’ এরপর ওই গ্রাহককে জোমাটো  সংস্থা জানায়, ‘খাবারের কোন ধর্ম হয় না। এটাই ধর্ম।’

এই ঘটনার পর জোমাটো সংস্থার বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন নেটিজেনরা। তারা একটি টুইট শেয়ার করেছিলেন এবং সেটিতে লিখা ছিল,’হালাল করা মাংস না পাওয়ায় ওই সংস্থাকে এক গ্রাহক কমপ্লেন জানিয়েছেন। এরপর জোমাটোর ওর তরফ থেকে সেই গ্রাহককে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে নেটিজেনদের প্রশ্ন, হালাল করা খাবারের বেলায় তো জোমাটো বলছে না খাবারে ধর্ম নেই তখন কেন বলেছিল খাবারেই ধর্ম। হালাল করা বা নন-হালাল করা খাবারের সাথে জোমাটো পার্থক্য করছে কেন?

Related Articles

Close