আপনার হ্যান্ড স্যানিটাইজারে মিথানল নেই তো? যেতে পারে দৃষ্টিশক্তি…

ঘরে থাকুন কিংবা বাইরে, COVID-19 এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে বারবার হাত ধোঁয়ার জন্য। ফলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে আগের তুলনায়। তাই বাজারে চলতি সব ধরনের স্যানিটাইজার এর উপর ভরসা রাখছেন আপনি আর সেটাই খুব স্বাভাবিক কথা। আর এই মহামারীর পরিস্থিতির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার পাশাপাশি পরিবারকে সুস্থ রাখতে যা যা করণীয় সবই করছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু কনজিউমার গাইডেন্স সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া বা যাকে আমরা সিজিএসআই নামে জেনে থাকি এখন তাদের তরফ বেরিয়ে এল এমন এক তথ্য যা রীতিমতো চমকে দেবার মত।

 

যেখানে তারা জানিয়েছেন স্যানিটাইজার এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক বিপদ এবং 122 টির মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি স্যানিটাইজারে মিলছে বিষাক্ত মিথানল। তাছাড়া কয়েকটি স্যানিটাইজার এর মধ্যে এমন রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে যা স্যানিটাইজার গুলির বক্সের লেভেলের গায়ে লেখা নেই। যেখানে এই স্যানিটাইজার গুলিতে প্রায় 4 শতাংশ হারে মেশানো হয়েছে বিষাক্ত মিথানল। গত 31 আগস্ট পর্যন্ত
কনজিউমার গাইডেন্স সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার তরফ থেকে একটি সমীক্ষা চালানো হয় যেখানে মুম্বাই থানে নবি মুম্বাইয়ের বাজারগুলিতে এই সমীক্ষা চালানো হয় এবং যেখানে সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার গুলিতে আদৌ অ্যালকোহল এর চিহ্ন রয়েছে কিনা তার ওপর ভিত্তি করে।

তাছাড়া তারা পাশাপাশি এই স্যানিটাইজারের লেবেলে যা লেখা রয়েছে তার সাথে ভিতরে কোন মিল রয়েছে কিনা সেটাও দেখা হয়েছে এই সমীক্ষায়।তার পাশাপাশি বর্তমানে বাজারগুলিতে যেসব স্যানিটাইজার গুলি বিক্রি করা হচ্ছে সেটি কত ক্ষতিকারক রাসায়নিক দিয়ে তৈরি করা হয়। যেখানে প্রায় 120 টি বোতলের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয় তাদের তরফ থেকে। গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি নামের এই পরীক্ষায় জানা যায় স্যানিটাইজার নিরাপদ কিনা।আর এই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ চালানো হয় সরকারি অনুমোদিত লেবোটারি গুলিতে যেখানে পরবর্তীকালে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয় এবং জানানো হয় দীর্ঘদিন ধরে যেসব কোম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজার গুলি তৈরি করে আসছে তাদের তৈরি পণ্যটি নিরাপদ হলেও বর্তমানে যেসব নতুন নতুন কোম্পানিগুলি স্যানিটাইজার বিক্রি করছে সেগুলির রিপোর্ট বিপদে ফেলার মতো।

 

কারণ সেই স্যানিটাইজার গুলিতে মিলেছে মিথানলের হদিস যা রীতিমতো বিষাক্ত। এমনকি এই মিথানল যেকোন সুস্থ ব্যক্তিকে প্রচন্ড অসুস্থ করে তুলতে পারে তার পাশাপাশি বমি, মাথা যন্ত্রণা, দৃষ্টিহীনতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে তার সাথে। এমনকি অনেক সময় কোন ব্যক্তি এর দরুন কোমাতেও পর্যন্ত চলে যেতে পারে। তাই সিজিএসআই এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে কোনভাবেই যেন মিথানল বেসড স্যানিটাইজার ব্যবহার না করে জনগণ।

কারণ এই ধরনের স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে এটি খুব সহজেই ত্বকের সাথে মিশে যায় এবং পরবর্তীকালে এটি শরীরে পৌঁছে যায়। এরপর শুরু হয় একাধিক সমস্যা, তাছাড়া এর দরুন ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। রীতিমত এই স্যানিটাইজার ব্যবহার বেশি করা হলে বড়োসড়ো সমস্যাও পর্যন্ত তৈরি হতে পারে তাই সিজিএসআই এর পরামর্শ স্যানিটাইজার বুঝে কিনুন।তারা পাশাপাশি বাড়িতে থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার না করে ডিটারজেন এবং সাবানের ব্যবহার করা অনেক নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে।