রিজার্ভেশন করেও মিলেনি সিট ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লক্ষ টাকা দেবে রেল, জানুন গোটা ঘটনা

বেশির ভাগ মানুষই ট্রেনে করে দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, কারণ ট্রেনে ভ্রমণ করা আরামদায়ক এবং সুবিধাজনক। ট্রেন প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেয়। প্রায়শই লোকেরা ট্রেনে আরামদায়ক যাত্রার জন্য আগাম রিজার্ভেশন করে রাখে, যাতে তারা কোনো ঝামেলা ছাড়াই আরামদায়ক ভ্রমণ করতে পারে। যদি রিজার্ভেশন করার পরেও ট্রেন উঠে বার্থ না পাওয়া যায়, তবে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। ঠিক এমনই সমস্যায় পড়েন বিহারের একজন প্রবীণ ভ্রমণকারী ইন্দ্র নাথ ঝা।


আসুন জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ ঘটনাটি সম্পর্কে। বিহারের প্রবীণ যাত্রী ইন্দ্র নাথ ঝা ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দারভাঙ্গা থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্য টিকিট বুক করেছিলেন, কিন্তু রিজার্ভেশন করার পরেও তাঁকে বার্থ দেওয়া হয়নি, যার কারণে তাঁকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। তাঁকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। বিহারের দারভাঙ্গা থেকে দিল্লি পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতে হয় তাঁকে। এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন। দিল্লির দক্ষিণ জেলা কনজিউমার কমিশন, ইন্দ্র নাথ ঝার অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব মধ্য রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনের আধিকারিকরা ইন্দ্র নাথ ঝার টিকিট অন্য যাত্রীর কাছে বিক্রি করেছিলেন। ইন্দ্র নাথ ঝা এই বিষয়ে টিটিইকে জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয় যে, তাঁর স্লিপার ক্লাসের সিট এসিতে আপগ্রেড করা হয়েছে, এর পরে ইন্দ্র নাথ ঝা সেখানে পৌঁছান কিন্তু সেখানেও ট্রেনের আধিকারিকরা তাঁকে সেই বার্থ দেননি। এ কারণে তাঁকে দারভাঙ্গা থেকে দিল্লি পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতে হয়। অভিযোগের বিরোধিতা করে রেলের কর্মকর্তারা বলেন, এ ব্যাপারে তাদের কোনো দোষ নেই। কমিশনের তরফে বলা হয়, এটা রেলওয়ের অবহেলার ঘটনা।


ইন্দ্র নাথ ঝা যাত্রার এক মাস আগে একটি রিজার্ভেশন করেছিলেন, কিন্তু তারপরেও তাঁকে দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছিল। তাঁর বার্থ আপগ্রেড হলে কেন তাঁকে তা জানানো হয়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীকে বার্থ দেওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্পষ্টতই এটি রেলওয়ের পক্ষ থেকে চরম অবহেলার ঘটনা। এবার বৃদ্ধ যাত্রীকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বর্তমানে বয়স্ক যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দিতে রেলকে নির্দেশ দিয়েছে কনজিউমার কমিশন।