এই ফলের চাষ করে এখন আপনিও বছরের রোজগার করতে পারবেন ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা, জেনে নিন কীভাবে করবেন চাষ

এক অনন্য উপকারী ফলের সম্পর্কে আলোচনা করা যাক, যা মূলত বিদেশি ফল। বিদেশই উৎস স্থল এই ফলের,কিন্তু বর্তমানে ভারতের বাজারে চাহিদা তুঙ্গে এবং সময়ের পরিবর্তনে ভারতেও এই ফলের চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন অনেকেই।

মূলত এই ফলটি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, ইজরায়েলের মতো দেশে হয়ে থাকে। ওই সমস্ত দেশে এই ফলের জনপ্রিয়তা প্রচুর, কিন্তু বর্তমানে ভারতেও কিছু কম নয়। আমরা কথা বলছি ড্রাগন ফলের বিষয়ে, এই ফলটিকে কখনো কখনো পিটায়াও বলা হয়। এই ফলের ত্বকের বাইরের আবরণ গোলাপি রংয়ের কিউইয়ের মতোই। এই ফলেও রয়েছে ছোট কালো বীজ, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

এছাড়াও এর অনেক গুণ আছে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী। এছাড়া ডায়বেটিস রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমায়। এই ফলে ফ্যাট ও প্রোটিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। যে কারণে বিদেশে প্রচুর পরিমাণে খাওয়া হয়, সবথেকে উল্লেখযোগ্য ড্রাগণ ফ্রুটে প্রচুর পরিমাণে জল রয়েছে যা গরমে শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। তবে এই ড্রাগন ফল চাষ করতে বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না, এর জন্য কোন উর্বর মাটির প্রয়োজন হয় না যেকোনো জায়গাতেই জন্মায়।

২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার আবহাওয়ায় ভালো জন্মায় এই গাছ। বেশি সূর্যালোক ও জলের প্রয়োজন পড়ে না। তবে যে মাটিতে চাষ করা হবে সেই মাটির পিএইচ মাত্রা ৫.৫ থেকে ৭ এর মধ্যে হতে হবে। জৈব পদার্থ, বেলে মাটিতে এই গাছ খুব ভালো চাষ করা যায় কারণ ড্রাগন ফলের গাছ খুবই দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তবে বলে রাখা ভালো, ড্রাগন ফল যে কোন রাজ্যে কোন মাটিতে তাপমাত্রা জন্মাতে পারে, এই ফলের উৎপাদনে তেমন যত্নের প্রয়োজন হয় না। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, অন্ধপ্রদেশ, কর্নাটক প্রভৃতি রাজ্যগুলিতে এই ফলগুলি বড় আকারে জন্মায়।

এবার আসা যাক ড্রাগন ফলের চাষ সম্পর্কে কিছু কথা, যা আপনাকে জানাবো। এই গাছ বছরে তিনবার ফল দেয় যা বছরে বেশ ভালোই আয় দিতে পারে অর্থাৎ এক একর জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হতে পারে। তবে শুরুতে এই চাষ করতে গেলে খরচ হবে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। তবে পরে মুনাফা ভালোই হয় এই চাষে, মে-জুন মাসে ফুল আসে ডিসেম্বর মাসে গাছে ফল ধরার শুরু করে। এক একটি ফল প্রায় ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হতে পারে, তাই এখন বেশিরভাগ মানুষই এই চাষের দিকে খুবই আগ্রহী।