উত্তরপ্রদেশে যোগীর পর পশ্চিমবঙ্গেও আসতে পারেন নতুন এক যোগী ! একদিকে তিনি ডাক্তার আবার সন্ন্যাসীও

ভগবান শ্রী রামের কথায়, একজন সন্ন্যাসীর থেকে ভালো রাজা কেউ হতে পারে না। কারণ একজন সন্ন্যাসী সবাইকে সমান চোখে দেখতে পারে। তাই সন্ন্যাসীদের মনে বৈরাগ্য ভাবনা থাকে। এছাড়াও সন্ন্যাসীদের মনে কোন ক্ষমতার লোভ থাকে না, কোন রকম আপনজন থাকে না। এই সমস্ত কথাগুলি বাইরের দেশগুলো জানুক বা না জানুক ভারতের সকলেই জানেন। শুধু তাই নয় যেদিন থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথকে আমরা দেখেছি তবে থেকে সারা দেশজুড়ে সন্ন্যাসী রাজা পাওয়ার দাবি তীব্র হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সন্ন্যাসী যোগী আদিত্যনাথ এর জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষজন তাকে নিজেদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ব্যতিক্রম নয়,মাঝে মাঝে পশ্চিমবঙ্গে এমন অনেক জনকে দেখা যায় যারা সন্ন্যাসীকে রাজা অর্থাৎ শাসক হিসেবে দেখতে চান। সেই অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের একজন স্বামীজির নামকে রাজনীতির জায়গায় দেখা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই স্বামীজির নাম হলেন স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ। ইনি রামকৃষ্ণ মিশনের একজন স্বামীজি।

আগামী 2021 সালে বিজেপি বিজয়ী হলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এনাকে দেখার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বহু হিন্দুবাদীরা। বঙ্গবিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে বহুদিন ধরেই চর্চায় রয়েছে। এখনো পর্যন্ত এই পদে তেমন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে দেখা যায়নি। আর‌ ঠিক কেমন অবস্থায় একজন সন্ন্যাসীকে যদি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয় তাহলে ভোটের ফলাফলে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ ছাড়াও ভারত সেবাশ্রম সংঘের কার্তিক মহারাজের নাম এই তালিকায় রয়েছে।

এই স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজের অতীত যদি আপনাদের সামনে বলি তাহলে ব্যাপারটা অনেক চমকপ্রদ হবে। ইনি মাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান অধিকার করে ছিলেন এবং উচ্চ মাধ্যমিকের সপ্তম স্থান অধিকার করেছেন শুধু তাই নয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তিনি 17 নম্বর স্থান অধিকার করে ছিলেন। এর ফলে বোঝা যায় তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমান। এরপর তিনি MRS মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেন তারপর দিল্লির AIMS থেকে এমডি করেন। এমডি কমপ্লিট করার পরে তিনি আমেরিকা যান হার্ট সম্বন্ধে গবেষণা করার জন্য।এরপর সেখান থেকে বেশ কিছু সময় ধরে দেখা মেলেনি তার।

এরপর দেবতোষ চক্রবর্তী কে বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী রূপে দেখা যায়। কিন্তু রাম কৃষ্ণ মিশন যেহেতু নিজেদেরকে রাজনীতি থেকে একেবারে দূরে রাখেন তাই তার রাজনীতিতে পা দেওয়া নিয়ে কিছুটা হলেও সংশয় রয়েছে। শুধু তাই নয়, কৃপাকরানন্দ মহারাজ অনেকদিন আগে একটি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন যে, তিনি রাজনীতিতে আসতে চান না। কিন্তু এটা ঠিক যে তার প্রতিভা এবং বক্তব্যের দরুন তিনি বাংলায় হিন্দুত্ব এবং উন্নয়ন দুটোকেই বজায় রেখে চলতে পারবেন। এবং এনাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলার মানুষের মেনে নিতে কোন অসুবিধা হবে না তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।