Skip to content

অ্যাকোয়ারিয়ামে বসবাসকারী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম মাছ, বিজ্ঞানীদের মতে ৯০ বছর বয়সী!

অ্যাকোয়ারিয়ামে থাকা মাছগুলির বেঁচে থাকা নির্ভর করে তাদের প্রজাতির বৈশিষ্ট্যের ওপর। সাধারণত এই মাছগুলো বেশিদিন বাঁচে না, অত্যন্ত যত্ন সহকারে রাখলেও মাছগুলি মাত্র কয়েক বছর বাঁচে। অ্যাকোয়ারিয়ামে রাখা গোল্ডফিশ কয়েক দশক ধরে বেঁচে থাকতে পারে, তবে পৃথিবীতে এমনও একটি মাছ রয়েছে যা ভারতের স্বাধীনতার আগে থেকেই সশরীরে জীবিত রয়েছে অ্যাকোয়ারিয়ামে।

সূত্র থেকে জানা যায় যে, মেথুসেলা হলো অ্যাকোয়ারিয়ামে থাকা বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত অ্যাকোয়ারিয়াম মাছ, যা ৪ ফুট লম্বা, ১৮ কিলোগ্রাম ওজনের একটি অস্ট্রেলিয়ান লাংফিশ। ১৯৩৮ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে সানফ্রান্সিসকোর জাদুঘরে আনা হয়েছিল এই মাছটিকে। ক্যালিফোর্নিয়ার একাডেমি অফ সায়েন্সেসের জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, এই মাছটির বয়স ৯০ বছর।

লাংফিশের দেহে ফুসফুস এবং ফুলকা উভয়ই বর্তমান থাকায় একে মাছ এবং উভচর প্রাণীর মধ্যে বিবর্তনীয় যোগসূত্র বলে মনে করা হয়।মেথুসেলার তত্ত্বাবধায়ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একাডেমি অফ সায়েন্সেসের সিনিয়র জীববিজ্ঞানী অ্যালান জান মনে করেন যে, মেথুসেলা হল একটি স্ত্রী মাছ। তিনি আরো বলেন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া লিঙ্গ নির্ধারণ করা অসম্ভব। গবেষণার জন্য মাছটির পাখনার একটি অংশ অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। গবেষণার পর মাছটির বয়স ও লিঙ্গ উভয়ই সঠিক ভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

একাডেমির মুখপাত্র জ্যানেট পিচ বলেছেন, মেথুসেলা সাধারণত শান্ত প্রকৃতির, তবে মাঝে মাঝে সে অস্থির হয়ে ওঠে। সে তাজা ডুমুর খেতে পছন্দ করে।

বাইবেল অনুসারে, নোয়ার পিতামহের নাম ছিল মেথুসেলা, যিনি ৯৬৯ বছর বেঁচে ছিলেন। যেভাবে এই লাংফিশটি দীর্ঘ ৯০ বছর ধরে বেঁচে আছে তাতে তার এই নামকরণ সার্থক।ক্যালিফোর্নিয়ার একাডেমি অফ সায়েন্সে আরও দুটি অস্ট্রেলিয়ান লাংফিশ রাখা হয়েছে, যাদের বয়স প্রায় ৪০-৫০ বছর। লাংফিশ যেহেতু একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী, তাই একাডেমির লোকজন মেথুসেলার বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন।