বিশ্বের দীর্ঘতম অটল রোহটঙ্ক টানেল সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

ট্রেনে যাতায়াত করার সময় আমরা প্রায়ই টানেল দেখতে পায়, তাছাড়া এখন শহরের একাধিক প্রান্তে ছোট ছোট সুরঙ্গও করা হয় যেগুলি আমরা যাতাযাত করার সময় প্রায় লক্ষ্য করে থাকি তবে আপনি হয়তো কোন দীর্ঘ সুরঙ্গ দেখেন নি, তবে আপনি কী জানেন বিশ্বের দীর্ঘতম বৃহত্তম টানেল তৈরি করা হয়েছে ভারতে। আর খুব শীঘ্রই এটি দেখার স্বপ্ন আপনাদের পুরণ হতে চলেছে। কারন এখন যে খবরটি বেরিয়ে আসছে, সেখানে জানা যাচ্ছে এই টানেলের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এই টানেলটির নাম রোটাং টানেল বা অটল টানেল যেটি হিমাচল প্রদেশের মোনালি থেকে কেলং যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই টানেলটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে 3200 কোটি টাকা।

 

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এটি উদ্বোধন করতে চলেছেন। বলে রাখি, মূলত সেনা-পরিবহণের জন্য এই টানেলের পরিকল্পনা করা হলেও, পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষরাও এই টানেল ব্যবহার করতে পারবেন।অর্থাৎ এবার বিশ্বের দীর্ঘতম টানেল তৈরি হল ভারতে,যেটি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। বলে রাখি এই টানেলটি তৈরি হওয়ার ফলে মানালি থেকে লেহ – লাদাখ দূরত্ব হ্রাস পাবে প্রায় 46 কিলোমিটার, বিশ্বের দীর্ঘতম এই টানেলের নাম রাখা হয়েছে ভারতের পূর্ব প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামে “অটল রোহতঙ্ক টানেল”।এটি তৈরি করতে প্রায় 10 বছর সময় লেগেছে।

এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সর্বোচ্চ সুড়ঙ্গ, এই টানেলটি প্রায় 8.8 কিলোমিটার দীর্ঘ ও একটি 10 ​​মিটার চওড়া রাস্তার টানেল যা 10,171 ফুট উচ্চতায় নির্মিত এই অটল রোহটঙ্ক টানেলটি রোহতংক পাসের সাথে সংযোগ স্থাপন করে নির্মিত করা হয়েছে। এই টানেল-টির মধ্য দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় 80 কিলোমিটার বেগে যে কোনো যানবাহন যাতাযাত করতে পারবে। তাছাড়া এই টানেলটি নির্মাণ হওয়ার ফলে মানালি থেকে লেহের দূরত্ব 46 কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে এবং এখন আপনি কেবল 10 মিনিটের মধ্যে এই দূরত্বটি অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন।

 

এই টানেলটিকে একটি বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হয়েছে যাতে এর মধ্য দিয়ে সহজেই 3000 গাড়ি এবং 1500 ট্রাক এক সাথে পাস করতে পারে। লাদাখে মোতায়েন ভারতীয় সেনারা এই সুড়ঙ্গ থেকে প্রচুর উপকার পাচ্ছে। শুধু জোজিলা পাস নয়, এখন এই নতুন রুটেও সেনাবাহিনীর পণ্য সরবরাহ করা হবে, এবং শীতকালে রসদ সরবরাহ এবং অস্ত্র সরবরাহ করা আরও সহজ হয়ে যাবে এর ফলে। তাছাড়া এই টানেলের অভ্যন্তরে অত্যাধুনিক অস্ট্রেলিয়ান টানেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, আর এটির মধ্যে একটি অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তি ভিত্তিক বায়ুচলাচল ব্যবস্থাও রয়েছে। এটি তৈরি করতে আনুমানিক খরচ হয়েছে প্রায় 4 কোটি টাকার।

এই টানেলের অভ্যন্তরে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে যা গতি এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক করবে, 200 কিলোমিটার দূরে টানেলের ভিতরে একটি ফায়ার হাইড্রেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে এটি আগুনের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। তাছাড়া ডিআরডিও এই টানেলের নকশা তৈরিতে সহায়তা করেছে যাতে তুষার এবং তুষারপাতের ফলে এই টানেলের কোনও প্রতিকূল প্রভাব না পড়ে, এই টানেলটি হিমাচল প্রদেশের লাহুল স্পিতিতেও ট্রাফিক সহজ করবে,আর কুল্লুও লাহাল স্পিতিকে মনালির সাথে যুক্ত করবে। এই টানেলটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছিল 28 শে জুন 2010 সালে।

শুধু তাই নয়, চীনের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বেও এই টানেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে কারন এর মাধ্যমে চীন সীমান্ত থেকে খুব সহজেই সেনাকে সরিয়ে আনা যাবে। পাশাপাশি, এই টানেলের কারণে এখন গভীর শীতেও মানালি থেকে কেলং যেতে পারবেন পর্যটকেরা। 13 হাজার 51 ফুট উচ্চতার রোটাং পাস এবার থেকে শুধু পর্যটন কেন্দ্র হয়ে থেকে যাবে, যাতায়াতের আবশ্যক উপায় নয়।