দেশনতুন খবরবিশেষলাইফ স্টাইল

ব্রেকিং খবরঃ মাত্র 12 দিনে দিল্লিতে তৈরি করা হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোভিড হাসপাতাল, রয়েছে 10 হাজার বেড সহ অত্যাধুনিক সুবিধার ব্যবস্থা…

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাগাতার বেড়েই চলেছে। আর সরকারও করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও কঠোর ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই করানো ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রাজধানী দিল্লিতে বিশ্বের সবথেকে কোভিড হাসপাতাল গঠন করে ফেলল ডিরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন)। এই হাসপাতালটি লম্বায় 1700 ফুট এবং চওড়াতে 700 ফুট। এই হাসপাতলে 10,000 টি বেড রয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ সর্দার প্যাটেল কোভিড কেয়ার সেন্টার অ্যান্ড হসপিটাল’।

রবিবার দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজল এই হাসপাতালের সূচনা করেন। এরপর এ হাসপাতালটি পরিদর্শন করতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দক্ষিণ দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পাশেই একটি বিশাল বড় জায়গা ছিল কেন্দ্রের অধীনে। এই বিশাল বড় জায়গাটিকে অস্থায়ী ভাবে কোভিড হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফ থেকে। হাসপাতলে 10 হাজার টি বেডের মধ্যে 250 টি বেডে রয়েছে আইসিইউ এর ব্যবস্থা। এছাড়াও মোট 1000 টি বেডে অক্সিজেন দেওয়া যাবে করোনা আক্রান্ত রোগীদের।

রবিবার এই হাসপাতালে সূচনা করার পর দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর জানান যে, দিল্লি এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটালের বাসিন্দারা এই হাসপাতালে পরিষেবা পাবেন। এ হাসপাতলে চিকিৎসক এবং নার্সের পাশাপাশি থাকবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। কারণ অনেক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে তাই তাদেরকে সুস্থ করার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের রাখা হবে। এদিন হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইট করে লিখেন,” এই কম সময়ের মধ্যে টাটা সন্স এবং ডিআরডিও যে দারুন কাজ করেছে তার জন্য ধন্যবাদ।

এছাড়াও সেনাবাহিনীদেরও ধন্যবাদ জানাই। দেশের এই সংকটের সময় এরা এগিয়ে এসেছে সাহায্য করার জন্য।” প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ” ডিআরডিও, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, টাটা সন্স ইনজাস্টিস সহ আরো অন্যান্য অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মাত্র 12 দিনে এই বিশাল বড় হাসপাতাল করে তোলা সম্ভব হয়েছে। ওয়েন নির্দেশিকা অনুসারে এখানে 250 টি আইসিইউ বেড ও তৈরি করা হয়েছে।” এই হাসপাতালটি তৈরি করার মূলে কারিগর এবং প্রযুক্তিগত সমস্ত পরিকল্পনা ডিআরডিও এর।

সম্প্রতি এই সংস্থার চেয়ারম্যান জি সতীশ রেড্ডি এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে,” এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই হাসপাতালে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা দিনরাত পরিষেবা দেবে করোনা আক্রান্ত রোগীদের। হাসপাতালে পাশাপাশি একটি বিশাল ডাম্পিং গ্রাউন্ড করা হয়েছে।” কারণ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসাতে বর্জ্য নষ্ট করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডাম্পিং গ্রাউন্ড করা হয়েছে। এই সংস্থার চেয়ারম্যান আরো জানিয়েছেন যে,” করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় যে সমস্ত সরঞ্জাম দরকার হয় সেগুলি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে 70 টি পণ্য তৈরি করা হয়েছে ইতিমধ্যে।

এখানে আমরা দেশীয় প্রযুক্তিতে কম সে কম 25,000 ভেন্টিলেটার তৈরি করতে পারবো। এমন কী আমরা বিদেশে রপ্তানী করতে পারি।” এই হাসপাতালে সম্পূর্ণ দায়িত্ব সামলাবে সেনাবাহিনী। চিকিৎসক নার্স এবং প্যারামেডিকেল স্টপ মিলিয়ে মোট 600 জন কে মোতায়েন করা হয়েছে হাসপাতালে।

Related Articles

Back to top button