একেই বলে ভালোবাসার টান, প্রেমিককে বিয়ে করতে বাংলাদেশ থেকে সাঁতার কেটে ভারত পৌঁছালো যুবতী

ভালোবাসার টানে মানুষ কত কিনা করে ফেলে। কোনো বাধা-বিপত্তি, কোন জাত পাত মানে না মানুষ। আর ঠিক সেই কারণে হয়তো কেউ একজন যথার্থ বলেছেন, প্রেম মানেই অন্ধ। তবে তো কথার কথা। প্রেমের টানে মানুষ কি কি করতে পারে তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ আমরা পেলাম গতকাল। প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার জন্য ওপার বাংলা থেকে নদী সাঁতরে এপারে পালিয়ে এলে প্রেমিকা।

উত্তাল নদী কোন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি এই দুইটি মানুষের মধ্যে। প্রেমিককে বিয়ে করার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় একঘন্টা নদীতে সাঁতার কেটে সুন্দরবনে উঠল এক তরুণী। তরুনীর ২২ বছর। ওই বাংলাদেশি তরুণী পশ্চিমবঙ্গের তরুণকে বিয়ে করার জন্য দিলেন অতুল সাগরে ডুব। প্রথমে সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, সেটি সম্ভব না দেখে অবশেষে জলপথকে বেছে নিলেন তিনি।

সুন্দরবনের উত্তাল নদী, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ভয় কোন কিছুই তাকে বাধা দিতে পারেনি। একটি অসম সাহস বুকে নিয়ে এক ঘন্টা ধরে উত্তাল নদী পার করে ফেললেন ওই তরুণী, পৌঁছে গেলেন ভালোবাসার মানুষের কাছে। কিন্তু এই দুই বাংলার দুটি মানুষের মধ্যে কি করে গড়ে উঠলো প্রেম?

বাংলাদেশ তরুণী কৃষ্ণ মন্ডল এর সঙ্গে এপার বাংলার অভিক মন্ডল এর প্রেম গড়ে উঠেছিল ফেসবুকের মাধ্যমে। মাঝে দেখাও করেছিলেন তারা। প্রেম পর্ব শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ফেসবুকে আর আবদ্ধ থাকতে চান নি তারা, চেয়ে ছিলেন এক হতে সরাসরি। কৃষ্ণা যেন আর তর সইছিল না। প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার জন্য রীতিমতো উঠেপড়ে লেগেছিলেন তিনি। পাসপোর্ট না থাকার কারণে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বেছে নেন জনপথকে। মাতলা নদীতে ডুব দেন কৃষ্ণা।

পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, কৃষ্ণা প্রথমে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। প্রায় একঘন্টা নদী সাঁতরে তিনি পৌঁছেছিলেন গন্তব্যে। অবশেষে দেখা পেলেন প্রেমিক অভিকের। অন্যদিকে অভিকও কৃষ্ণার প্রতীক্ষায় ব্যাকুল হয়ে ছিলেন। কৃষ্ণা এপারে আসার পর কলকাতা কালীঘাটে বিয়ে করে নেন তারা। কিন্তু সংসার গড়ে তোলার আগেই অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করার অভিযোগে সোমবার শ্রীঘরে ঠাই হয় কৃষ্ণার।

সূত্রের খবর, কৃষ্ণাকে বাংলাদেশের হাইকমিশনে হস্তান্তর করা যেতে পারে। এই বছরের শুরুর দিকে ইমরান হোসেন নামে এক কিশোর তার প্রিয় চকলেট বার পেতে এক ছোট নদী সাঁতরে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। ওই কিশোরকে গ্রেফতার করে ১৫ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। এবার কৃষ্ণার পালা! বিচারবিভাগীয় বিভাগ কি সিদ্ধান্ত নেন কৃষ্ণার জন্য সেটা এখনো পর্যন্ত জানা যায় নি।