এক সময় করতেন অফিস বয়ের কাজ তারপর ফেলে দেওয়া ঘড় থেকে তৈরি করলেন প্লাইউড আজ করছেন কোটি টাকা রোজগার

গাছ ছাড়া আমাদের জীবন একেবারে অচল। গাছ আমাদের ফুল-ফল অক্সিজেন ছাড়াও প্রতিনিয়ত যুগিয়ে যাচ্ছে বহু জিনিস। গাছ থেকে আমরা যেমন কাগজ পাই,তেমন পাই আঠা, তেমন পাই কাঠ। তবে কাঠ তৈরি করার জন্য গাছ মেরে ফেলছি আমরা। আসবাবপত্র তৈরি করার জন্য এইভাবে শত শত গাছ কেটে ফেলেছে ব্যবসায়ীরা। তবে আজ এমন একজন ব্যবসায়ী কথা আপনাদের বলব যিনি গাছের ক্ষতি না করেই পাতলা কাঠ তৈরি করেছেন।

চেন্নাইতে বসবাসকারী বিএল বেঙ্গনি শহরের সব থেকে ধনী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম। এই ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় কোটি কোটি টাকা। এই ব্যবসায়ী একটি প্লাইউড কোম্পানির মালিক। কিন্তু এই কোম্পানি গাছের কাঠ থেকে প্লাইউড তৈরি করে না। তারা প্লাইউড তৈরি করেন ফসলের পরে থাকা অবশিষ্টাংশ থেকে। সাধারণত ধান বা গম ফসল কাটার পর অবশিষ্ট খড় পোড়ানো হয়, যা থেকে প্রচুর পরিমাণে বায়ু দূষণ হয়। এমন পরিস্থিতিতে এই দূষণের কারণে মানুষের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার কৃষকদের খড় না পড়ানোর অনুরোধ করছেন বারবার। কিন্তু কৃষকদের কাছেও কোন বিকল্প নেই, খড় অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যায় না। তাই তাকে পুড়িয়ে ফেলা ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা নেই কৃষকদের কাছে। এমন পরিস্থিতিতে চেন্নাইতে বসবাসকারী এই ব্যবসায়ী খড় নিষ্পত্তি করার দুর্দান্ত একটি উপায় বের করেছেন।

তিনি অবশিষ্ট খড় দিয়ে তৈরি করেন প্লাইউড। চেন্নাইতে বসবাসকারী এই ব্যবসায়ী এবং তাঁর সন্তানরা গ্রামে পড়ে থাকা খড় যেগুলি বর্জ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেগুলি প্লাইউড তৈরিতে ব্যবহার করেন। প্রাকৃতিক উপায়ে এই খড়।কেটে পাতলা পাতলা কাঠ তৈরি করেন এবং নানা ধরনের আসবাবপত্র এবং গৃহসজ্জার জিনিস তৈরি করেন।

প্রসঙ্গত, বেঙ্গনির বাবা একজন জুট মিলের কর্মচারী ছিলেন। ১৯৭২ সালে তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে আসে। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অন্তর্গত এই ব্যবসায়ী ছোটবেলায় দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। তারপর এই আর্থিক অনটনের কারণে চাকরি করতে হয় তাঁকে। কিন্তু চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। এইভাবে স্নাতক পাস করেন তিনি।

এরপর ভালো চাকরির সন্ধানে তিনি কলকাতা থেকে চেন্নাইতে আসেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে হিসাব রক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি এই চাকরি পরিবর্তন করেন এবং প্লাইউড কোম্পানিতে বিপণনের কাজ পরিচালনার দায়িত্ব পান।

২০০১ সালে তিনি নিজে প্লাইউড বোর্ড তৈরি করার ব্যবসা শুরু করেন। ১০ বছর ধরে তাঁর কোম্পানির বাইরের দেশ থেকে আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে প্লাইউড বোর্ড তৈরি করার কাজ করতে থাকে। ২০১০ সালে ব্যবসায়ীর ছেলে বরুণ কোম্পানির দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হঠাৎ বরুণ সিদ্ধান্ত নেন, চাষ থেকে যে খড় পাওয়া যায়, তা থেকে তৈরি হবে প্লাইউড।

এইভাবে বার্ষিক টার্নওভার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌছে যায়।প্রসঙ্গত, লকডাউনের সময় কোম্পানিকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে পরিবেশবান্ধব প্লাইউড তৈরি করে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করছেন এই ব্যবসায়ী তেমন অন্যদিকে নিজেদের ব্যবসারও প্রসার ঘটাচ্ছেন ক্রমাগত।