বাংলার মতো এবার ত্রিপুরাতেও চলবে কী তৃণমূলের জাদু, নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ছক সাজাছে তৃণমূল কংগ্রেস

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বোধের প্রধান অস্ত্র ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর।তা ছোট থেকে বড় সকলেরই জানা। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে প্রায় ২ বছর ধরে ছক সাজিয়ে ধীরে ধীরে বাংলা ফের তৃণমূল কংগ্রেসকে দখল করতে সাহায্য করেছে প্রশান্ত কিশোরের টিম। বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সদ্য সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন আগামী দিনে অন্য রাজ্যেও ক্ষমতা দখলের জন্য ঝাঁপাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এবার শুধু বিধায়ক বাড়ানো মূল লক্ষ্য নয় ক্ষমতা দখলের পথে হাঁটতে চলেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম লক্ষ্য হিসাবে অবশ্যই তালিকায় রয়েছে ত্রিপুরা। মাত্র ২০ মাস পর ত্রিপুরায় নির্বাচন, তাই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ছক সাজাতে প্রস্তুত পিকের টিম। জানা গেছে বাংলার ধাঁচে ধীরে ধীরে ত্রিপুরাতেও নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে চলেছে তৃণমূল। ২ মে বিধানসভার ফল ঘোষণার পর আজ অব্দি প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি বাম ও বিজেপি সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

জানা যাচ্ছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসেই ত্রিপুরা যেতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই আগামী দিনের জন্য দলের প্রতি বার্তা দিতে পারেন তিনি।অনেকেই মনে করছেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা সুদীপ রায় বর্মন খুব শিগগিরই যোগ দিতে পারেন তৃণমূলে। যদিও সুদীপকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন তিনি এখন অব্দি কোন সিদ্ধান্ত নেননি তবে পাঁচ ছয় মাসের মধ্যে রাজনৈতিক চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ২০২১ সালের একুশে জুলাই শুধু বাংলায় নয় এবার দিল্লি, ত্রিপুরা , উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র সহ আরো বিভিন্ন রাজ্যে পালন করা হবে।

দুপুর ২ বিভিন্ন জায়গায় জায়েন্ট স্ক্রিন লাগিয়ে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে ত্রিপুরাতে তৃণমূলের প্রতি যথেষ্ট আবেগ রয়েছে মানুষের মধ্যে যার প্রতিফলন পড়তে চলেছে আগামী দিনে ভোটবাক্সে।ত্রিপুরার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি আশিস লাল সিং জানান পরের মাসেই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের রাজ্যে আসার কথা। প্রত্যেকে তাকে চাইছেন। দল প্রতিদিনই কলেবরের মতো বেড়েই চলেছে। চাহিদা রয়েছে ফ্ল্যাগ, ফেস্টুনের।

আগরতলার দুই প্রান্ত ছাড়াও উদয়পুর ,ধর্মনগর জায়েন্ট স্ক্রিনে শোনানো হবে নেত্রীর ভাষণ। যদিও প্রায় সব ব্লকে একটি সভা জায়েন্ট স্ক্রিন দেখানোর দাবি রয়েছে কর্মীদের মধ্যে। সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে আগামীদিনের হোমওয়ার্ক ক্রিকেট টিমের তরফ থেকেও বার্তা পাঠানো হয়েছে জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন তৃণমূল নেতৃত্ব কে। আগামী দিনে অবশ্য তৃণমূলের ত্রিপুরা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয় কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।