কেন বাতিল হচ্ছে হাজার হাজার স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড! এবার ব্যাঙ্কের কাছে কৈফিয়ত চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য শুরু করেছিলেন student’s ক্রেডিট কার্ড। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন এবং পড়াশোনা করতে পারবেন। লোনের টাকা অর্ধেক মেটাতে হবে ছাত্রছাত্রীকে এবং অর্ধেক দেবে সরকার। কিন্তু বাস্তব ছবিটা একেবারে অন্যরকম। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, হাজার হাজার স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে ব্যাংক। ঋণ নেওয়ার জন্য আবেদন করলেও তা বাতিল করে দিচ্ছে ব্যাংক।

প্রায় যত সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল ব্যাংকে, তত সংখ্যক আবেদন বাতিল করে দিয়েছে ব্যাংক। ফলে ইতিমধ্যেই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে। এদিকে বেসরকারি ব্যাংক তো বটেই, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলিও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দিতে চাইছে না। টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকার কারণে ব্যাংক লোনের টাকা দিতে চাইছে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বলেছিলেন, টাকার অভাবে যাতে কোনো ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ না হয় তার জন্য তৈরি করা হলো স্টুডেন্ট কার্ড। শুধুমাত্র সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী নয়, যারা স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা, গবেষণা, ডাক্তারি পড়ছে, তাদের সকলেই এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে লোন পেতে পারেন। এমনকি যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসবেন, তাদের এই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কোচিং ফি দিতে লাগবেনা।

এই কার্ডের মাধ্যমে লোন নিতে গেলে পড়ুয়ারা ব্যাংকে জমা দেবেন রেজাল্ট, পরিবারের খরচ এবং কোর্সের খরচ। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একেবারেই অন্য। অভিযোগ উঠেছে, মেধার মান সন্তোষজনক হচ্ছে না বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঋণের টাকা দিতে চাইছে না ব্যাংক। যারা ডিম পেয়েছেন তাদের বেশির ভাগ নিম্নআয়ের পরিবারের পড়ুয়া রয়েছেন।

অনেকেই মনে করছেন, এই জটিলতা কাটানোর জন্য লোন স্যাংশন ক্যাম্প আয়োজন করা উচিত ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও কলকাতা সহ অন্যান্য জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই ১৭৬ টি লোন স্যাংশন ক্যাম্প চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮ হাজারের বেশি লোন অনুমোদন করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গেছে প্রায় ৩ হাজার ৪৬৮ টি আবেদন। মঞ্জুর করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬১৮ টি আবেদন। কেন এত আবেদন বাতিল করা হলো, কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা জানার জন্য ইতিমধ্যে নবান্ন তৈরি করেছে টাস্ক ফোর্স। জেলায় জেলায় সমস্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার সমাধান খুজবে এই টাস্কফোর্স গুলি।