হিন্দু ধর্মে মহিলাদের কেন শ্মশানে যেতে নিষেধ করা হয়? জানুন বিস্তারিত

বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে অতীতের কিছু সামাজিক নিয়ম যা একটা সময়ের পর অপ্রয়োজনীয় মনে হয় সকলের। এখনকার যুগের মানুষ পুরনো সমস্ত নিয়মকানুন যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করতে পছন্দ করেন। সেইরকমই নারীদের শ্মশানে যাওয়া নিয়ে বিধি-নিষেধ রয়েছে প্রাচীন যুগ থেকে। যদিও এই নিয়ম এখনকার শহুরে সমাজে অনেকেই মানতে দ্বিধাগ্রস্ত হন। তবে গ্রামের দিকে এখনো কঠোরভাবে মেনে চলা হয় এই নারীদের শ্মশানে যোগ না দেওয়ার রীতি।

এখনকার যুগে মৃত্যুর পর অবশ্য শবদেহ বহনের গাড়ি পাওয়া যায়। কিন্তু কয়েক বছর আগেও শ্মশান বন্ধুরা দেহ নিয়ে যেতেন কাঁধে, পথ দিয়ে লাইন করে আত্মীয়-স্বজনরা পৌঁছতেন শ্মশানে। এটাই ছিল শ্মশান যাত্রার একমাত্র মাধ্যম। তবে রক্ষণশীলতা নারীকে পথে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হতো না। যদিও অনুমতি মিলত ,একসঙ্গে শবদেহের মিছিলে হাটার কোন প্রশ্নই থাকত না। সামাজিক প্রসঙ্গ বাদ দিলেও মেনে চলা হত কিছু যুক্তি তারমধ্যে কোনোটাই আংশিক সত্যি কোনোটা বা আদতে অর্থহীন আসুন দেখে নিন সেকালের মানুষের যুক্তি।

১) শাস্ত্রে পুরুষ ও নারী কে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। শ্মশানঘাটে মৃত ব্যক্তির অন্তিম সৎকার হয়ে থাকে। মৃতদেহ সৎকার হওয়ার পর মস্তক-মুণ্ডন করতে হয়। মহিলাদের মস্তক মন্ডলের কোন বিধান নেই। এই কথার যুক্তি হিসাবে বলা হয়ে থাকে মহিলাদের চুলের শিখর পথে আত্মারা, প্রবেশ করে শরীরে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী শ্মশানে অনেক আত্মারা ঘুরে বেড়ায়। তার মধ্যে কোনো দুষ্টু আত্মা শরীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে মস্তক মুন্ডন করা হয়। যদিও এই যুক্তি অনেকে মানেন আবার অনেকে কুসংস্কার বলে মনে করেন।

কোন কোন Mobile Number রেজিস্টার রয়েছে আপনার Aadhaar Card-র সাথে, জানতে পারবেন এই সহজ পদ্ধতিতে

২) মহিলাদের মন কোমল ও নরম হয়। কারোর দুঃখ দেখতে পারে না। আদতে শ্মশানের দৃশ্য মধুর হয় না খুবই ভয়াবহ হয়। মৃতদেহ পরিবার-পরিজনের কান্না থেকে সৎকারের দৃশ্য কোনটাই সেভাবে সহ্য করা যায় না। যার প্রয়োজন তার পক্ষে তো অসম্ভব।হিন্দু মহিলাদের শ্মশান যাওয়াতে রয়েছে নিষেধ

৩) অনেক সময় দাহ করার ফলে মৃতদেহ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যেন মনে হয় মৃতদেহ উঠে বসে আছে। সেই সময় বাঁশের আঘাতে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। এই দৃশ্য অনেক পুরুষই সহ্য করতে পারেনা। নারীরা তো পারবেন এই না।

৪) আরো একটি কারণ রয়েছে যেখানে অনেকটা যুক্তিযুক্ত দেহ, দেহ শ্মশান এর উদ্দেশ্যে চলে যাবার পর ঘর পরিষ্কার করা টা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে। কেননা জীব মৃতদেহ থেকে জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকে। তাই ঘর ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হয়। ঘর পরিষ্কার করাতো আবার বরাবরই নারীদের প্রধান কাজ । তাছাড়াও শ্মশান যাত্রীরা বাড়ি ফিরলে তাদের কাছে এগিয়ে দিতে হয় লোহা, আগুন ও নিমপাতা। এই সমস্ত কাজের জন্য মহিলারা উপযুক্ত।

হিন্দু মহিলাদের শ্মশান যাওয়াতে রয়েছে নিষেধ

৫) আর এই যে কারণটি রয়েছে সেটি কিছুটা কুসংস্কারের মত। বলা হয় শ্মশানঘাটে আত্মাদের বাসস্থান। এই আত্মার আবার মহিলাদের খুবই পছন্দ করেন। তাই শ্মশানযাত্রায় মহিলাদের নিয়ে যাওয়া হয় না।

৬) মহিলারা পরিবার-পরিজনের মৃত্যু হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিধিতে আছে মৃতদেহ সামনে কান্নাকাটি করলে মৃতদেহের আর পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া হয়না। মুক্তি না পাওয়ার কষ্ট থেকে সবাইকে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এই কারণ গুলোর জন্যই মহিলাদের শ্মশান যাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয় না।