ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে চলেছে কাদের নাম? একথা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়…

কারা এবার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন না সে কথা রাজ্যে প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।উত্তর বঙ্গের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে কোন কোন শর্তে কাদের কাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কাদের সে ভোটার তালিকায় স্থান দেওয়া হবে না সে কথা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এদিন। এইদিন প্রশাসনের শীর্ষ নেতাদের কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়ে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী “ডবল ডবল ভোটার” বরদাশ্ত করা হবে না এবার।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বলেন এবার ভোটার লিস্ট শুরু হয়েছে পূজোর জন্য আমাদের মুখ্যসচিব অনুরোধ করেছিলেন তার কার্য কালকে কিছু দিন বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। আর সেই জন্যেই আরো একমাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সে কার্য কালকে। তিনি বলেন এবার আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আছে যে ভোটার লিস্টটা দয়া করে ডিএলআরওরা যারা আছেন অনেক সময় তাঁরা অফিসে বসছেন না, যার ফলে অনেক সাধারণ মানুষেরা হ্যারাসমেন্ট হয়ে ঘুরে চলে যাই।

এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমেও এখন ভোটার তালিকার কাজ করা শুরু হয়েছে কিন্তু মনে রাখবেন পরীক্ষাটা আপনাকে করে দেখতে হবে কেউ অনলাইনে পঞ্চাশটা টা নাম উত্তরপ্রদেশে এসে তুলে দিল সে উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা এখানকার লোক নয় কিন্তু। এখানকার লোক উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা হলে করে দেব। আর মহারাষ্ট্র থেকে অনলাইনে কেউ কিছু করে দিল এটা কিন্তু এত সস্তা হবে না না হলে সেখানের 19 কোটি লোকটা হয়ে যাবে 12 কোটিতে যার ফলে আসল লোকেরা পাবেনা তার স্থান চাই ভোটার লিস্ট টা কে ভালোভাবে করতে হবে সেই দিকে ধ্যান রাখতে হবে।

তবে এখানেই শেষ নয় এইদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে আমাদের বাংলায় শুধুমাত্র যে হিন্দু-মুসলিম মানুষের বসবাস করছেন তা নয় সব ধর্মের লোকেরায় বসবাস করছেন এখানে সব সম্প্রদায়ের নাম যারা বাংলায় থাকে তাদের মধ্যে রয়েছে রাজস্থানি, গুজরাটি সবাই আছে যারা বাংলায় থাকে তাদের নাম যেন বাদ না যায় বাংলা থেকে।তবে এ কথা মাথায় রাখতে হবে যে কেউ কেউ আবার নাম অন্য জায়গা তো একবার তুলে আসে আবার এখানে এসে ডবল এন্ট্রি করিয়ে নেয় তাই এন্ট্রি করবার সময় তখন কম্পিউটারে দেখে নেবেন।

তিনি আরও বলেন তবে এ ক্ষেত্রে আমি বলছিনা যে বিহারের লোক এখানকার আদিবাসী হতে পারবেন না হতেই পারেন যারা বাংলায় থাকেন তাদের নামটাই শুধুমাত্র উঠবে কিন্তু একজন মানুষ যে কিশানগঞ্জে গিয়ে ভোট দিচ্ছে আবার ইসলামপুরে এসেও ভোট দিচ্ছে এটা ঠিক নয়।আবার কেউ অসমে গিয়ে ভোট দিচ্ছে আবার সে বাংলায় ভোট হলে বাংলায় এসে ভোট দিচ্ছে এ কথা মাথায় রাখতে হবে। কারণ দেশে এমনও মানুষ আছে যারা ছলনার আশ্রয় নিয়ে এ কাজ করে থাকে। তাই আমি দায়িত্ব সহকারে এই প্রশাসনিক বৈঠকে যেসব আধিকারিকরা আছেন তাদের এ কথা মাথায় রাখতে বলছি। সাথে সাথে একথাও তিনি জানিয়ে দেন বাংলায় এনআরসি করার কোন প্রকার পরিকল্পনা নেই তার। তিনি বলেন এ কথা যখন আমি বলছি তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে বলছি।