ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই হু এর তরফে জারি কড়া হুঁশিয়ারি, জানানো হল আশঙ্কার কথা

এতদিন ধরে শুধু মাত্র খাতায়-কলমে করোনাভাইরাস এর তৃতীয় ঢেউয়ের আলোচনা করা হচ্ছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন আগে দুটি ঢেউয়ের থেকে তৃতীয় ঢেউ অনেকটা কম কার্যকরী হবে। কিন্তু তাদের এই সমস্ত ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দিয়ে করোনাভাইরাস এর তৃতীয় ঢেউ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করল WHO প্রধান। তারা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন করোনাভাইরাস এর তৃতীয় ঢেউ খুব শীঘ্রই আসলে পড়তে চলেছে এবং এটি বেশ ভালো পরিমাণে ক্ষতি ডেকে আনবে।

এছাড়াও WHO ভারতের কেন্দ্র এবং রাজ্যের আবেদন জানিয়েছে যেন করোনাভাইরাস এর সচেতনতার ক্ষেত্রে কোন রকম ভুল তথ্য আটকে দেওয়া হয় এবং সমস্ত বিধি নিষেধ পালন করার জন্য যেন কোন রকম ঢিলেমি না হয়। বিশ্বের বেশ কিছু জায়গায় ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ এর প্রভাব। WHO এর নির্দেশের পর সাথে সাথে এবার আগামী ১০০ দিন যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে ভারতের জন্য জানাল কেন্দ্র।

এখনও পর্যন্ত কোভিডের কোন রকম কড়া প্রতিষেধক তৈরী হয়নি। সমীকরণে দেখা যাচ্ছে এখনও পর্যন্ত করোনার টিকা পেয়েছেন ৪১.১০ কোটি মানুষ। করোনা তৃতীয় ঢেউ (ডেল্টা স্টেইন) ইতিমধ্যেই 111 টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ গুলিতে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রমনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই এই আগামী ১০০ দিন ভারতকে খুব সাবধানে থাকতে হবে বলে জানাচ্ছেন কেন্দ্র।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডক্টর ঘেব্রিয়েসুস বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমেরিকার অবস্থা ভীষণভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে, আক্রান্তের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে, করোনার তৃতীয় ঢেউ প্রায় আছড়ে পড়ছে গোটা বিশ্বজুড়ে’।ইতিমধ্যে ভারতের তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র ও কেরলের পরিস্থিতি ভীষণ খারাপের দিকে। এই নিয়ে কেরল এর মুখ্যমন্ত্রীর সাথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকও করেছেন। তবে করোনার টিকা যে এই মারণ ভাইরাস কে রুখতে একমাত্র অস্ত্র নয় তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন হুর প্রধান।

তার কথায় ‘বিশ্বের বহু দেশ কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছে এই ভাইরাসকে রুখে দেওয়া সম্ভব’ আর সেজন্যই জনসচেতনতা জরুরি বলে জানান ঘেব্রিয়েসুস। তিনি মনে করেন প্রত্যেকটি দেশকে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০% ,২০২১ সালের শেষে ৪০% এবং ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ৭০% টিকাকরণ সম্পূর্ণ করলে তবে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে জানান তিনি।