জগন্নাথের আসল মাসি কে ? কেন রথের দিন তার বাড়িতে যান ভগবান জগন্নাথ দেব, বিস্তারিত জানতে

আসছে শনিবার রথ যাত্রা, পুরির জগন্নাথের মাসির বাড়ি যাবার দিন, এই রথ নিয়ে আছে অনেকের অনেক রকম মতামত, রথের উপর থাকা বামন জগন্নাথকে দেখলে পুনর্জন্ম হয় না, রথের দড়ি টানা কেও হিন্দু ধর্মের মানুষেরা একটা খুব পুর্নের কাজ বলে মনে করেন। রথের দিন কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় করে পুরির মন্দিরে। আসছে শনিবার আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে রথ।

রথের দিন মহারহে রথে চেপে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ। সাথে যায় বলরাম ও সুভদ্রা, আজ আপনাদের বলব জগন্নাথের মাসি কে? কেন জগন্নাথ শুধু এই সাত দিনের জন্য মাসির বাড়ি যায়, কোথায় তার মাসির বাড়ি? এই সব কিছু।

ইন্দ্রদ্যুম্ন ছিলেন কলিঙ্গের রাজা। তিনি ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক এবং পরম ভক্ত। তিনি তৈরী করলেন একটি মন্দির, নাম দিলেন শ্রীক্ষেত্র। বর্তমানে যাকে আমরা জগন্নাথধাম হিসাবে চিনি। মন্দির তো রাজা তৈরি করলেন, কিন্তু তাতে ছিল না কোন বিগ্রহ, একদিন রাজ দরবারে একজন বললেন নীলমাধবের কথা। নীলমাধব ছিলেন বিষ্ণুর এক রূপ। তখন রাজা লোক পাঠালেন নীলমাধবকে খুঁজে আনতে। কিন্তু সবাই ব্যর্থ হয়ে খালি হাতে ফিরে এলো। শুধু ফিরে এলো না বিদ্যাপতি। দিকভ্রান্ত হয়েছেন তিনি, তখন পুরির জগন্নাথ মন্দির থেকে তাকে উদ্ধার করলেন ললিতা। ললিতা ছিলেন শবররাজ বিশ্ববসুর কন্যা। তখন ললিতার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিদ্যাপতি।

জয় জগন্নাথ

তারপর থেকে তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে শুরু করল জঙ্গলে। বেশ কয়েকদিন ধরে বিদ্যাপতি দেখতেন তার শশুর শবররাজ প্রতিদিন সকালে স্নানের পর উধাও হয়ে যেতেন, একদিন থাকতে না পেরে বিদ্যাপতি তার স্ত্রী কে জিজ্ঞেস করেই ফেললেন সে কথা, তখন তিনি জানতে পারলেন, শবররাজ জঙ্গলের ভিতরে এক নীলমাধবের মন্দির আছে সেখানে রোজ পুজো দিতে যান, সেই শুনে বিদ্যাপতি তার শশুরকে বলে তাকে সেখানে নিয়ে যাবার কথা,।

কিন্তু শবররাজ কোনও রকমেই রাজি নন, শেষে জামাই এর চোখ বেঁধে নিয়ে যান, এদিকে জামাইও মহা চালাক, হাতের মুঠোয় সরষে নিয়ে সেই সরষে গোটা জঙ্গল এর পথে ছড়িয়ে যেতে থাকে, তারপর নীলমাধবকে দেখে তিনি মনকে স্থির রাখতে পারলেন না, খুব ভক্তিভরে পুজো দিলেন, তারপর হঠাৎ দৈববানি ভেসে এলো, আমি এবারে পুজো নেব মহা- উপাচারে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের কাছে, কিন্তু শবররাজ হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে জামাই বিদ্যাপতিকে আটক করলেন, পরবর্তী কালে ললিতার চোখের জলে গলে গিয়ে বিদ্যাপতিকে ছেড়ে দেন শবররাজ।

রাজাকে খবর পাঠানোর পর রাজা মহা সমারহে নীলমাধবকে নিতে গেলেন কিন্তু পেলেন না নীলমাধবকে। তারপর আবারো দৈববাণী পেলেন রাজা, সমুদ্র থেকে কাঠ এনে আমার বিগ্রহ বানাতে হবে, তাই হল, কিন্তু একদিন রাতে রানী ঘর থেকে শুনতে পেলেন না বিগ্রহ তৈরির আওয়াজ দরজা খুলে তিনি দেখলেন নেই কারিগর। বিগ্রহের তখন হাত, পা করা বাকি, তখন রাজা রানী দুজনেই জগন্নাথের থেকে স্বপ্ন পেল। তিনি এই রূপেই পূজিত হতে চান। তারপর থেকেই ভক্তদের কাছে জনপ্রিয় তিনি।

জগন্নাথদেবের প্রধান অনুষ্ঠানই হল রথযাত্রা। দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রার সাথে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথদেব। ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ি হল মাসির বাড়ি। সাতদিন থাকার পর আবার ফিরে আসেন তিনি। এখন বাংলার বহু জায়গাতেই এই রথযাত্রা অত্যন্ত জনপ্রিয়।