প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে চাই জনতা? মোদি, রাহুল, মমতা না কেজরিবাল বেরিয়ে এলো তথ্য

দেশজুড়ে থাবা বসিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।এই মহামারী করোনা কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের প্রাণ। বহু শিশু নিজের বাবা-মাকে হারিয়ে অনাথ হয়েছে৷ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে মন ভারাক্রান্ত হওয়া ছাড়া আর কিছু নেই৷ আর এই করোনা কালের সময় কে ঘিরে কেন্দ্র সরকারের ওপর যথেষ্ট প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকি এই করোনাকালে মোদি সরকার দেশকে যেভাবে সামলেছে তা নিয়ে শুধু জাতীয় সংবাদ মাধ্যমেই নয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও চর্চার বিষয় হতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

একদিকে করোনা সাথে পাল্লা দিয়ে দিয়ে বাড়ছে দেশের দিন দিন বেকারত্বের সংখ্যা তারপর আবার এই লকডাউনের ফলে বহু মানুষ ও পরিবার চলে গিয়েছে দারিদ্র্যসীমার নিচে। এর পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে দেশের অর্থনীতিও, নীচে চলে গিয়েছে ভারতের জিডিপির (GDP) হার। শুধু তাই নয় এই করোনা মহামারীর জেরে ভারতে দিন দিন মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসেরও। তাই বলা যেতে পারে এসব ঘটনার জেরে যথেষ্ট সংকটে পড়েছে বর্তমান সরকার।

এমন অবস্থায় সরকারবিরোধী হাওয়া তৈরি হচ্ছে একাধিক জনতার মধ্যে, যার জেরে সরকারের কিছু কিছু পদক্ষেপকে দেশের মানুষ পছন্দ করছেন আবার কিছু কিছু পদক্ষেপ কে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে অভিহিত করছেন। আর এইসব কথা জানতে চেয়ে 534 টি লোকসভার প্রায় 1 লক্ষ 39 হাজার মানুষের উপর একটি সমীক্ষা চালায় সমীক্ষক সংস্থা সি-ভোটার।

যেখানে জনতাদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরা হয় যাদের মধ্যে ছিল সরকারের বিদেশনীতি, 370 ধারা বিলোপ, ভ্যাকসিন বন্টন নীতি, রাম মন্দির নির্মাণ, লকডাউনে সরকারের একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ। যেখানে একাধিক মানুষকে এই বিষয়ে সমর্থন করতে দেখা যায় আবার একাধিক মানুষকে এক্ষেত্রে অসমর্থ করতে দেখা যায়। এরপর সমীক্ষক সংস্থার তরফে এই জনগনের কাছে প্রশ্ন হিসাবে তুলে ধরা হয় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারা এখন যোগ্য ব্যক্তি হিসাবে কাকে চাইছেন বা কাকে দেখতে চান তারা।

যেখানে তাদের কাছে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয় মোদি, মমতা, রাহুল, কেজরিওয়ালের নাম–

তবে যে পরিসংখ্যান বেরিয়ে এসেছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো, যখন দেশজুড়ে সরকারের একাধিক নীতির সমালোচনা চলছে তারপর আবার NRC,CCA, কৃষি বিল নিয়ে সবর হয়েছে বিদেশি একাধিক সংবাদ মাধ্যম তখনও

দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আবারো বেছে নিলেন নরেন্দ্র মোদি কেই। যদিও এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প হিসাবে একাধিক নাম রাখা হয়েছিল সেখানে, যেখানে ছিল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীঃ, মনমোহন সিং, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ও মমতা ব্যানার্জির নাম।

কিন্তু জনতার মত অনুযায়ী আবারো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এগিয়ে গেল নরেন্দ্র মোদীর নামই, যেখানে এই সমীক্ষাতে প্রায় 42 শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদির নামকে। যেখানে 12 শতাংশ ভোট পেয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এক্ষেত্রে ভোট পেয়েছেন 6%, আর 6 শতাংশ মানুষ বেছে নিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে, আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বেছে নিয়েছেন এই সমীক্ষায় প্রায় 4 শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে। যদিও এক্ষেত্রে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক করার পর থেকেই “দিল্লিতে মমতা” এমন গুঞ্জন উঠেছে শুরু করেছিল একাধিক প্রান্ত থেকে। তবে তার প্রভাব যে এই সমীক্ষায় একটুকুও পড়েনি তার স্পস্ট ইঙ্গিত মিলল জনতার রায়ে।

এর পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন জনতার উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয় যেখানে বলা হয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাছতে হলে তারা কাকে বেছে নেবেন এক্ষেত্রে ভোটারদের কাছে অপশন হিসেবে তুলে ধরা হয় নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধীর নাম। যার উত্তরে বেরিয়ে আসে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদীর নামে যেখানে প্রায় 50 শতাংশ মানুষ মোদীকেই প্রধানমন্ত্রী স্বরূপ আবারো দেখতে চান। এক্ষেত্রে রাহুল গান্ধীর পক্ষে রায় দিয়েছেন প্রায় 30 শতাংশ মানুষ আর 10 শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন এদের দুজনের মধ্যে কাউকেই তাদের পছন্দ নয়, আর বাকি 10% অবশ্য কোনো উত্তর দিতে চায়নি এ বিষয়ে।

তাই এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে করোনার পর থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার আঁচ কিন্তু মোদির জনপ্রিয়তাতে একটুও পড়েনি। এখনো দেশের একাধিক মানুষের পছন্দের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম স্থান হিসাবে রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নাম’ই।