Categories
কলকাতা নতুন খবর বিশেষ রাজ্য

করোনা পরীক্ষাতে মাত্র 500 টাকাতে কিট বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলা, WHO এর তরফে চেয়ে পাঠানো হল এই করোনা কিট

দক্ষিণ 24 পরগনার একটি বায়োটেক সংস্থা বিশ্বের সবচেয়ে সস্তার করোনা কিট তৈরি করেছে। যে কিটের দাম মাত্র 500 টাকা আর এই কিট এর মাধ্যমে কোন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কিনা অর্থাৎ শরীরে মরণ ভাইরাস COVID-19 আছে কীনা তা মাত্র 90 মিনিটের মধ্যে বলে দেওয়া যাবে। এমন কী করোনা পরীক্ষায় বাংলায় এই যে সবচেয়ে সস্তার কিট তৈরি করেছে সেটি চেয়ে পাঠালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO। শনিবার দিন রাজ্যের সেই করোনা কিট তৈরি কারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে WHO।

যার দরুন আজ রবিবার দিন প্রথম ধাপে 1000 কিট যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তরে। আর এই খবর শুনে খুবই উচ্ছ্বসিত হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও, তিনি এদিন রাজ্যের উপচার্যের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন এবং বিষয়টি জেনে অভিনন্দন জানান তাদের। গত দুই মাসের কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংস্থা বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা দরে করোনা পরীক্ষার কিট তৈরি করেছে। এটি দক্ষিণ 24 পরগনার বাখরাহাটের জিসিসি বায়োটেক। ইতিমধ্যে এটি আইসিএমআর দ্বারা অনুমোদন ও পেয়েছে। এ বিষয়ে সেই সংস্থার এক অধিকারীক জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে আমাদেরকে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং যার দরুন আমরা রবিবার দিন হাজার টি কিট পাঠাচ্ছি তাদের। শুধু তাই নয় এই অধিকারীক আরো জানান যদি আমাদের কীট বিশ্বের দুঃস্থদের কাজে লাগে তাহলে আমার মানবো আমাদের গবেষণার সার্থক হয়েছে। এই সংস্থা শুধু করোনা পরীক্ষায় নয় এর পাশাপাশি ডেঙ্গু- চিকুনগুনিয়া এর সহ বিভিন্ন অসুখের সস্তায় পরীক্ষা করার লক্ষ্যেই কাজ করে থাকে।

অন্যদিকে এই বিষয়ে সিএসআইআর এর প্রাক্তন বিজ্ঞানী অধ্যাপক সমিত আঢ্য, কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বায়ো টেকনোলজির এক অধ্যাপক ও এক ঝাঁক গবেষক দক্ষিণ 24 পরগনা গবেষণাগারে টানা দুমাস পরিশ্রম করেন তার ফলস্বরূপ বেরিয়ে আসে এটি চলতি মাসের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই বিষয়ে স্বীকৃতি দেয়। এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটছে কেন্দ্রীয় সরকার তো বটেই পাশাপাশি আসাম, উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্য এই কিট নিয়ে যাচ্ছে তাদের কাছ থেকে।তবে যেখানে এই করোনা কিট তৈরি করতে হাজার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে সেখানে কিভাবে মাত্র 500 টাকা দিয়ে তা সম্ভব হয়েছে, সে বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে এই এক আবিষ্কারক দলের অন্যতম সদস্য যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিনি জানান এই কিটের ভেতরে থাকা কোন কাঁচামাল কে বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়নি, সমস্ত সামগ্রী আমরা বাংলার গবেষণাগারে তৈরি করেছে তার ফলে অত্যন্ত কম দামে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।আইসিএম আর অনুমোদিত যেকোনো ল্যাবে প্রতিদিন অন্তত হাজার জন রোগীর পরীক্ষা সম্ভব। এই সংস্থা জানিয়েছে তারা এই মুহূর্তে প্রতি মাসে 1 কোটি কিট উৎপাদনের কাজ চালাচ্ছে, আর যদি কেন্দ্রীয় সরকার চায় তাহলে সেটিকে দ্বিগুণ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য গুলির এই কিট কিনতে উদ্যোগী হয়েছে।যদিও এখনো পর্যন্ত এই 500 টাকার যে কিটের পরীক্ষার ব্যবস্থা সেটি এই রাজ্যে চালু করা হয়নি তবে এই প্রসঙ্গে সংস্থার এক অধিকারীকে যখন প্রশ্ন করা হয় তিনি জানান আমাদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক খুবই ভালো রয়েছে তাই স্বাস্থ্য ভবনের তরফে খুব তাড়াতাড়ি নিশ্চয়ই যোগাযোগ করা হবে এই বিষয়ে।