অপেক্ষায় বসে ভারতের দু’কোটি চাকরিপ্রার্থী! কবে হবে রেলের 2.5 লক্ষ শূন্য পদে কর্মী নিয়োগ, নেই কোনো স্পষ্ট ধারণা…

প্রায় এক বছরের কাছাকাছি হয়ে গেল এখনো পর্যন্ত থমকে রয়েছে রেলের একাধিক নিয়োগের পরীক্ষা। এই নিয়োগ-প্রক্রিয়ার উপরে ভরসা করে আছে দেশের প্রায় দু’কোটি চাকরি প্রার্থী।লোকসভা ভোটের বেশ কয়েকমাস আগে রেলের তরফ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ শুন্য পদে নিয়োগ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর জন্য শুরু হয় ফর্ম ফিলাপ। প্রায় আড়াই কোটি আবেদনকারী এই শূন্য পদের জন্য আবেদন করেছেন।

সেই আবেদন করার দিন থেকে প্রায় এক বছর হয়ে গেল এখনও পর্যন্ত কবে পরীক্ষা হবে সে বিষয়ে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি আদেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে? নাকি লোকসভা ভোটের আগে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা ছিল শুধুমাত্র লোক দেখানো? পরীক্ষার ফি বাবদ সরকারের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা পৌঁছেছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরীক্ষার দিনক্ষণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি সরকারের তরফ থেকে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে।গত বছরই লোকসভা ভোটের কিছুদিন আগে রেলের শূন্যপদ পূরণ করার ঘোষণা করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। মোট চারটি ক্ষেত্র মিলিয়ে লক্ষাধিক শূন্যপদের জন্য চাকরি প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ ছিল। এর মধ্যে সবথেকে বেশি শূন্য পদ ছিল গ্রুপ ডি এর জন্য। 1 লক্ষ 3 হাজার 769 টি শূন্য পদ ছিল গ্রুপ-ডি পোষ্টের জন্য। এছাড়াও রেলের নন টেকনিক্যাল পোষ্টের জন্য প্রচুর শূন্য পদ ছিল যেটা আমরা এনটিপিসি নামে জানি।

এর জন্য গত বছরের 24 শে ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এই দুটো বিভাগ মিলিয়ে মোট 35 হাজার 267 শূন্যপদ ছিল বলে জানানো হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে। এদের মধ্যে 10 হাজার 682 টি পদ ছিল অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণদের জন্য। দ্বিতীয় ক্ষেত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেওয়া হয়েছিল স্নাতক। এদের জন্য শূন্য পদ ছিল 24 হাজার 689 টি। এছাড়াও 1937 শূন্য পদ ছিল প্যারামেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য।

এই সমস্ত পদগুলিতে আবেদনের জন্য মোট 2 কোটির ও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরমধ্যে গ্রুপ-ডি পদের জন্য মোট আবেদনকারীর সংখ্যা 1 কোটি 15 লক্ষ 67 হাজার 248 জন। এবং আরআরবি এনটিপিসি জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা 1 কোটি 26 লাখ 30 হাজার 885 জন। প্রত্যেকটি পদের জন্য আবেদন কারীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ 500 টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এবং সংরক্ষিত প্রার্থীদের জন্য 250 টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।

অতএব সব মিলিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা সরকারের ঘরে জমা পড়েছে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর থেকে। এখন দেখা যাক এতদিন পেরিয়ে যাবার পরেও এর সম্বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নিতে চলেছে বা কবে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করবে।