করোনা ভাইরাস আসলে কী? যার দরুন দিন দিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা,জানুন এই ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে…

চীন সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাস আক্রমণ করেছে। ভারতেও এই ভাইরাস আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতেও  সর্তকতা জারি করা হয়েছে। এই ভাইরাসে ইতিমধ্যেই 270 জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে এই রোগে আক্রান্ত কয়েক হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ নিয়ে সর্তকতা জারি করেছে। কিন্তু এই করোনা ভাইরাস আসলে কী তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন উঠছে।

তবে আপনাদের জানিয়ে দিই, করোনা ভাইরাসের অপর নাম হল ‘2019-এনসিওভি’। এই ভাইরাসের নানান প্রজাতি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে সাতটি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমণ ছড়ায়। এই করোনাভাইরাস এক মানুষের দেহ থেকে অন্য মানুষের দেহে ছড়িয়ে যায়। এই ভাইরাস মানুষের দেহ কোষের মধ্যে প্রবেশ করে এবং গঠন পরিবর্তন করে এক নতুন রূপ নিচ্ছে। এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়। শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে চলে যেতে পারে এই করোনা ভাইরাস।

আমাদের সাধারণ ফ্লু বা হাঁচি, কাশির মধ্যে এই ভাইরাস অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসের ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, বিভিন্ন অর্গান ফেলিওর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি মৃত্যু ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ থেকে প্রায় 10 বছর আগে সার্স নামক এক ভাইরাসের সংক্রমণে গোটা বিশ্বে মোট 800 জনের মতো লোক মারা গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন সেটিও এক ধরনের করোনা ভাইরাস ছিল।

এই ভাইরাসের লক্ষণ গুলি সম্পর্কে আমরা নিচে আলোচনা করব –
1. করোনা ভাইরাসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
2. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ছাড়াও একই সঙ্গে জ্বর ও কাশি হওয়া।
3. অর্গান ফেলিওর হয়ে যাওয়া বা দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া।
4. এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিউমোনিয়া হতে পারে।
এই ভাইরাস নিয়ে বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, করোনা ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করার পাঁচ দিন পর থেকে লক্ষণগুলি দেখা যায়। প্রথম লক্ষণ হলো ওই ব্যক্তির জ্বর হবে। তারপর শুকনো কাশি শুরু হবে। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের।এবার এই ভাইরাসের প্রতিকার গুলি সম্পর্কে আলোচনা করবো –

যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন তাই এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। এবং এর কোনো চিকিৎসা নেই যার ফলে এই রোগ পুরোপুরি সেরে যাবে। তবুও এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকার কিছু উপায় বলা হচ্ছে।
1. এই রোগের একমাত্র প্রতিকার হল যে, সমস্ত ব্যক্তিরা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

2. এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন যে, বারবার হাত ধোয়া,বাইরে গেলে মুখোশ ব্যবহার করা এবং হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা।
3. আপনি যদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ ব্যবহার করুন বা নিজেও অসুস্থ না হলেও সংস্পর্শ এড়াবার জন্য আপনাকে মুখোশ ব্যবহার করতে হবে। কারণ চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে 15 জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে গেছেন এই ভাইরাসে।