সত্যিই কী অনিশ্চিত রয়েছে ‘অগ্নিবীর’দের ভবিষ্যৎ! যাবতীয় ভুল ধারণা দূর করল কেন্দ্র, বিস্তারিত জানতে

এবার অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্রীয় সরকার, কারণ এই প্রকল্পকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সেনাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবারই হিংসাত্মক আন্দোলন দেখা গিয়েছে বিহারে, একই চিত্র রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশে। তবে শুধু চাকরিপ্রার্থীরা নন, এই প্রকল্পে আপত্তি রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী থেকে অবসর প্রাপ্ত জওয়ানদেরও। আসলে এই প্রকল্পকে ঘিরে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে এবং কিছু অস্পষ্টতাও রয়েছে যা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে বারংবার, তাই এদিন বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের সমস্ত বিষয়ের সত্যতা তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রথমেই যে প্রশ্ন উঠে আসছে তা হল চার বছর চাকরির মেয়াদের পর তারা কি করবেন সে প্রসঙ্গে সরকার জানিয়েছেন অগ্নিবীরদের জন্য একটি আর্থিক প্যাকেজ ও ব্যাংক ঋণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। যারা আরো পড়াশোনা করতে চায় এবং দ্বাদশ শ্রেণীর সমমানের সার্টিফিকেট কোর্স করার সুযোগও দেয়া হবে তাদের, এছাড়াও কেউ যদি চাকরি করতে চায় তাদের সিএপিএফ এবং রাজ্য পুলিশে নিয়োগ করা হবে, সেক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এমনকি অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্র, এছাড়া অনেকের মনে হচ্ছে যে এই প্রকল্পের ফলে সশস্ত্র বাহিনীতে তরুণদের চাকরির সুযোগ আরো বাড়বে যে কারণে আগামী কয়েক বছরেই সেই সংখ্যা বর্তমান সময়ের প্রায় তিনগুণ হবে। এই নতুন অগ্নিপথ প্রকল্পে ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সী তরুণদের নিয়োগ করা হবে, যে কারণে অনেকেরই দাবি কম বয়সীরা সেনাবাহিনীতে কাজ করার উপযুক্ত নয়। তবে সরকার মনে করেছেন সেনাবাহিনীর যুবকদের উপর নির্ভরশীল, তারা এটাও বলেছেন বাহিনীতে অভিজ্ঞদের তুলনায় তরুণদের সংখ্যা বেশী হবেনা। এই নতুন প্রকল্পের ফলে তরুণ এবং অভিজ্ঞদের একটি ভারসাম্য তৈরি হবে।

তবে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা মনে করছেন এই সমস্ত অগ্নিবীররা ভারতীয় সমাজকে বিপদে ফেলতে চলেছেন, যে কারণে মেয়াদ শেষে তাঁরা জঙ্গিবাদের দিকে অগ্রসর হলেও হতে পারেন। তবে তার বিরুদ্ধে সরকার সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার জন অবসর গ্রহণ করেন তাঁরা কখনোই কোন দেশবিরোধী যোগদানের কথা ভাবেন না, আজ অব্দি যা কখনো ঘটেনি।

তবে সশস্ত্রবাহিনী অনেক প্রাক্তন কর্তারা মনে করছেন সরকার এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ গ্রহণ না করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে আবার অনেক প্রাক্তন কর্তারা এই প্রকল্পকে স্বাগতও জানিয়েছেন তাঁরা মনে করছেন এতে আগামী দিন আরো উজ্জ্বল হতে চলেছে। তাই এই প্রকল্পকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।