আরো একবার কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বাঁধলো সংঘাত, প্রধানমন্ত্রীর কৃষি সম্মান নিধি যোজনা মেনে নিতে নারাজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ফের একবার রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত বাঁধলো। সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি যোজনা। কয়েক মাস আগে আয়ুষ্মান ভারত নামক এক যোজনা এনেছিল কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্য সরকার সেটি মানতে অস্বীকার করে তাই সেই যোজনা ওখানেই বন্ধ হয়ে যায়। এবারও তেমনি প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি যোজনা রাজ্য সরকার মানতে চাইছে না। আর তাই এই বিষয় নিয়ে বুধবার নয়াদিল্লিতে উষ্মাপ্রকাশ করলেন প্রকাশ জাভড়েকর। পাল্টা রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব প্রকল্প রয়েছে।

গোটা দেশের মধ্যে 5 শতাংশ কৃষককেও সুবিধা দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। পাল্টা বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন যে কৃষকদের এইভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি যোজনায় কৃষকেরা তিনটি কিস্তিতে বছরে 6 হাজার টাকা করে পান। এই যোজনাতে এখনো পর্যন্ত মোট 6 হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশ জাভড়েকর। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্পে রাজি হতে চাননি বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের এই সিদ্ধান্তের ফলে সেখানকার কৃষকেরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।” প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি যোজনায় আধার কার্ড সংযুক্তিকরণ এর সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রকাশ জাভড়েকর। অপরদিকে রাজ্য সরকার পাল্টা দাবি করে, কেন্দ্রের এই প্রকল্পটি চালু করার অনেক আগে থেকেই রাজ্যে এরকমই একটি প্রকল্প চালু রয়েছে। কৃষি অধিকর্তা প্রদীপ মজুমদার বলেন,” আমরা কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বছরে 5 হাজার টাকা করে কৃষক এবং বর্গাদারদের দিয়ে আসছি।

 

কেন্দ্রীয় সরকার নামে এই প্রকল্প চালাচ্ছে কাজে আদৌ কিছু হয়নি। এই প্রকল্পের দ্বারা দেশের 5% কৃষক পর্যন্ত উপকৃত হয়নি। তাই অনেক রাজ্যেই এই প্রকল্পের শামিল হচ্ছে না। আমরা নিজেরাই প্রকল্প চালাবো।” এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন,” এটা প্রথমবার নয় এর আগেও অনেকবার কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষদের বঞ্চিত করেছে রাজ্য সরকার। গরীব কৃষকদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবেন না।”

এর আগে লোকসভা ভোটের আগে আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে জোরতর টক্কর হয়েছিল কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে। নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদি এসে বলে গিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার গরিবদের স্বাস্থ্যপরিসেবা থেকে বঞ্চিত করছে। এরপর পাল্টা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি করেছিলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প আগে থেকেই চালু রয়েছে। আর রাজ্য সরকার যে প্রকল্পের 60% টাকা দিচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের মুখে প্রচার চালাচ্ছে এটা মেনে নেওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

Related Articles

Close