গোটা দেশে লাগু হলেও বাংলাতে হতে দেবেন না “এক দেশ, এক রেশন কার্ড” প্রকল্প সরাসরি জানিয়ে দিলেন..

অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারমণ দ্বিতীয় দফার প্যাকেজ ঘোষণা করার দিন পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আগামী দুই মাস বিনামূল্যে চাল গম দেওয়ার সিদ্ধান্তের সাথে
সাথে ঘোষণা করেছিলেন “এক দেশ, এক রেশন কার্ড কর্মসূচি”র।যেখানে তিনি জানান আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এই “এক দেশ,এক রেশন কার্ড” তৈরি করার কাজ। তখন রাজ্যের যে কোনো প্রান্তে থাকা মানুষই তাদের প্রয়োজনীয় রেশন সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে দেশের যেকোনো রেশন দোকান থেকেই।

এর ফলে অনেক উপকৃত হবে দেশের সে সব মানুষেরা যারা এক রাজ্য থেকে কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে গিয়ে থাকেন তারাও, কারণ তারাও এক্ষেত্রে ডিজিটাল কার্ড দেখিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় রেশন তুলে নিতে পারবেন দেশের যেকোন রেশন দোকান থেকে।তবে কেন্দ্রের ঘোষিত এই এক দেশ এক রেশন কার্ড প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ থাকবে না একথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন আছে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি জানান এর আগে আমাদের সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা এই প্রকল্পে নেই। আর এই যে সিদ্ধান্ত টি সেটি আজ থেকে 6-7 মাস আগেই নিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানান আমাদের রাজ্যে আগে থেকেই চালু রয়েছে “খাদ্য সাথী প্রকল্প”- তাই এখানে আলাদা করে কোনো প্রকল্প আনার প্রয়োজন নেই এমনটাই তিনি জানান। এর পাশাপাশি তিনি জানান এই খাদ্যসাথী প্রকল্পে রয়েছে 9 কোটি মানুষ। তাই এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর এ কথাটা কতটা প্রযোজ্য হবে তা জানিনা বলে তিনি জানান। আর এরই সঙ্গে এই দিন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে তোপ দেগে বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গে তিন মাস মুসুর ডাল দেওয়া হবে তবে এই ক্ষেত্রে প্রতিমাসে রাজ্যে মুসুর ডাল লাগে 14,430 মেট্রিক টন, অর্থাৎ এক্ষেত্রে যদি তিন মাসের হিসাব করা যায় তাহলে মোট মুসুর ডাল লাগবে 43,290 মেট্রিক টন।

তবে এখনো পর্যন্ত আমরা মাত্র 13,270 মেট্রিকটন মুসুর ডাল পেয়েছি তাই যতক্ষণ পর্যন্ত এক্ষেত্রে পুরো পরিমাণে ডাল পাচ্ছি ততক্ষণ ডাল সরবরাহ করতে পারব না। আর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ যে “এক দেশ, এক রেশন কার্ডের”- ঘোষণা করেন সেখানে তিনি জানান এই প্রকল্পটি আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়ে যাবে আর এর দরুন 23 টি রাজ্যের উপভোক্তা দের 83 শতাংশ উপকৃত হবেন। আর এই পরিষেবা একবার শুরু হয়ে গেলে যে শ্রমিক বাইরে যাবেন তিনি তার সঙ্গে নিয়ে যাবেন তার ডিজিটাল রেশন কার্ড যার ফলে ভিন্ন রাজ্যে গিয়েও তিনি তার পরিমাণমতো রেশন দোকানের নাম লিখিয়ে নিয়ে নিতে পারবেন তার প্রাপ্য রেশন। আর একবার এই ব্যবস্থা চালু হয়ে গেলে দেশের যে কোন প্রান্তে গিয়ে যে কেউ রেশন তুলতে পারবেন তার ফলে পরিবারও সমস্যায় পড়বে না।আর এই মুহূর্তে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আগামী দু মাস বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হবে এ কথা তিনি ঘোষণা করেন,তাছাড়া রেশন কার্ড নেই এমন পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যেও মাসে মাথাপিছু 5 কেজি গম- চাল এবং পরিবার পিছু 1 কেজি ডাল দেওয়া হবে তারাও এক্ষেত্রে দুমাস এই পরিষেবা পেয়ে যাবেন।