গাড়ি আইন ও ট্রাফিক ভাঙ্গার নয়া জরিমানা হিসেবে সরকারের আয় বাড়ল ১১ লক্ষ টাকা

বুধবার প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে জরিমানার অংক বাড়ানো শুরু করেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। প্রথম দিনেই বিধি ভঙ্গকারী গাড়ির বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে প্রায় ১৪ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। আগের তুলনায় প্রায় ১১ লক্ষ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে জরিমানা হিসেবে। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি এক পুলিশ কর্তার মন্তব্য অনুযায়ী, ধার্য করা জরিমানার সমস্ত অর্থ যদি বিধিভঙ্গকারীরা মিটিয়ে দেয়, তাহলে একদিনেই সরকারের বাড়তি আয় হবে সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা, যা আগের তুলনায় ৪ গুণ বেশি।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রজাতন্ত্র দিবসে নিয়ম ভঙ্গকারী ১৯১৫ টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে যার মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙ্গার মামলা ৩৭৬ টি। এমন অপরাধ আগে হলে ১০০ টাকা জরিমানা নেওয়া হতো যার বদলে বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। ফলে হিসাব করে দেখলে দেখা যায় ৩৭৬ টি গাড়ি থেকে সরকারের আয় হত ৩৭৬০০ টাকা যেখানে বর্তমানে আয় হচ্ছে ৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫০০টাকা।

ট্রাফিক পুলিশ হেলমেট ছাড়া মোটর বাইক চালানো কোন ব্যক্তিকে জরিমানা করলে আগে দেওয়া হত ১০০ টাকা, যেটি এখন দিতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা। ১২৮এবং ১২৯ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে যথাক্রমে ১৩২ এবং ২৭৭ টি, যার ফলে সরকারের বাড়তি আয় হয়েছে ৭৪ হাজার ৯০০ টাকা। তবে সরকারের সব থেকে বেশি আয় হতে পারে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর জরিমানা থেকে যার আগে জরিমানা ছিল ১০০০ টাকা যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০০ টাকায়।

তবে নো এন্ট্রি জোনে ঢুকে পড়া এবং রেজিস্ট্রেশনের বিধিভঙ্গকারী গাড়ির ক্ষেত্রে জরিমানায় কোন পার্থক্য আসেনি। আগের মতোই এই দুটি ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো জরিমানাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাবার সুযোগ থাকে বিধি ভঙ্গকারীদের। মামলায় না জিতলে জরিমানা দিতে হয়।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জরিমানা না দিয়ে মামলা চলাকালীন গাড়ি অথবা মোটর বাইক নিয়ে ঘুরছেন বিধি ভঙ্গকারীরা।সেক্ষেত্রে যে পরিমাণ আয় সরকারের হতে পারতো তা অনেক ক্ষেত্রেই হয় না।প্রসঙ্গত, এইভাবে জরিমানা বাড়িয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে কতখানি লাভবান হবে সরকার তা দেখা সময়ের অপেক্ষা।