জুনিয়র ডাক্তারদের জন্য রাজ্যের বড় ঘোষণা! বাড়ানো হল বেতনের পরিমাণ, এবার থেকে…

সারা দেশজুড়ে যে মহামারী চলছে তাতে একদম প্রথম সারিতে থেকে লড়াই করছেন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। এছাড়াও সমস্ত সরকারি হাসপাতালে এই সময় জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর রয়েছে বিশাল চাপ। করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তারা যেভাবে প্রথম সারিতে থেকে মানুষের সেবা করছেন তার প্রশংসা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার রাজ্যের জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জুনিয়র চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।

সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। এরপর তিনি জানান, জুনিয়র চিকিৎসক দের বেতন বৃদ্ধি হলে উপকৃত হবেন রাজ্যের প্রায় 10,000 জুনিয়র ডাক্তার। ইন্টার্নরা এখন প্রতি মাসে বেতন পান 23 হাজার 625 টাকা। তা বাড়িয়ে 28 হাজার 50 টাকা করা হয়েছে। হাসপাতালে হাউজ স্টাফদের এখন বেতন 38 হাজার 491 টাকার। তাদেরও বেতন বাড়িয়ে করা হয়েছে 43 হাজার 781 টাকা।এছাড়াও ডাক্তারি পড়ুয়াদের পোস্ট গ্রাজুয়েট একটি ট্রেনিং হয় তার প্রথম বর্ষে ভাতা পান 38 হাজার 391 টাকা।এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 43 হাজার 758 টাকা।

কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন সরকারি হাসপাতালে কাদের জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আসলে যারা এমবিবিএস পড়ছেন তাদেরকেই মূলত জুনিয়র ডাক্তার বলা হয়। হাতে কলমে শিক্ষা পাওয়ার জন্যই তারা ডিগ্রী পাওয়ার আগে কাজে যোগ দেন। প্রত্যেকটি সরকারি হাসপাতালে একদিনের জন্য একটি করে চিকিৎসকের ইউনিট তৈরি করা হয়। এবং এই ইউনিটে কম করে চার থেকে পাঁচজন জুনিয়র চিকিৎসক থাকেন। এছাড়াও আরও চার থেকে পাঁচজন পোস্ট গ্রেজুয়েট ট্রেনি থাকেন।

একটি ইউনিটে এনারা ছাড়াও থাকেন একজন হাউস স্টাফ। এখন সরকারি নিয়ম অনুসারে মেডিকেল পড়ুয়াদের হাউস স্টাফ হিসেবে পরিষেবা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক নয়। তবে কেউ যদি ইচ্ছা করেন তাহলে এক বছরের জন্য এই পদে যোগ দিতে পারেন।এছাড়াও একজন আএমও থাকেন। তিনিও কিন্তু পাশ করার চিকিৎসক এবং বেতন পান। সপ্তাহে ছয়দিন ছাড়াও মাঝে মাঝে রবিবারও কাজ করতে হয় জুনিয়র ডাক্তারদের। প্রথমে দিনের শুরুতে সকাল ন’টা নাগাদ প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যেতে হয় এবং সেখানে রোগীদের শারীরিক অবস্থা কেমন রয়েছে তা দেখতে হয়।

কার কনটেস্ট দরকার হবে বা ওষুধ পরিবর্তন হয় কীনা সে বিষয়েও দেখতে হয় জুনিয়র ডাক্তারদের। এছাড়াও রোগীদের পেশার মাপা সহ আরও অন্যান্য কাজ করতে হয় এনাদের। এরপর সকাল দশটা থেকে আউটডোরে রোগী দেখতে হয় জুনিয়র চিকিৎসকদের। এদের মধ্যে যদি কারো ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন থাকে তাহলে তারা পাঠিয়ে দেন পিজিটি’র কাছে। এরপর পিজিটি যদি দেখে রোগীর অবস্থা আরো ক্রিটিক্যাল তাহলে তারা সিনিয়র চিকিৎসকদের কাছে পাঠিয়ে দেন। একদিনে একটি ইউনিটকে প্রায় 300 থেকে 500 রোগী দেখতে হয়। এছাড়া প্রাথমিকভাবে কাউকে ওষুধ দেওয়া বা হসপিটালে ভর্তি করা এই সমস্ত কাজও জুনিয়র ডাক্তারদের করতে হয় মাঝে মাঝে।

More Stories
এবার শত্রুর মোকাবেলায় রাফায়েল এ জবাব দেবে ভারত।