দেশনতুন খবরবিশেষরাজ্য

বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল আনছে কেন্দ্র, গৃহস্থ ও কৃষকদের বিদ্যুতের খরচ পাবে ব্যাপক বৃদ্ধি-মুখ্যমন্ত্রী মমতা..

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল আনতে চলেছে এবছর। এই বিল আইনে পরিণত হলে সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতে ও কৃষক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এখনকার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বিদ্যুতের বিল। একদিকে যেমন সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতে বিদ্যুতের মাশুল বাড়বে তেমনি আবার অপরদিকে শিল্প ও বানিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের মাশুল কমবে। শুধু তাই নয় এই আইনে রান্নার গ্যাসের ভর্তুকির টাকা যেমন গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে তেমনি বিদ্যুতের বিলের ক্ষেত্রেও হবে।

প্রত্যেকটি গ্রাহককে প্রথমে টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনতে হবে তারপর মাসের শেষে ওই গ্রাহক যতটা পরিমাণ ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্য সেই টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষদের আর্থিকভাবে অনেকখানি সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সম্পর্কে শনিবার বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ এই বিল আইনে পরিণত হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা শাখার সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এ নিয়ে বলেছেন,’ শুধুমাত্র বিদ্যুৎ আইন সংশোধন নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ জন বিরোধী এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এখনো এর প্রতিবাদ করছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী।’ শুধুমাত্র তৃণমূল নয়, বাম এবং কংগ্রেসও এর প্রতিবাদ করেছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন যে,’ সাধারণ গৃহস্থ গ্রাহক এবং কৃষকদের যাতে আর্থিক অসুবিধা সৃষ্টি না হয় তার জন্য আমরা বিদ্যুতের বিলে ক্রস সাবসিডি দিই।

আর এটাই কেন্দ্রীয় সরকার তুলে দিতে চাইছে। তবে ওরা যাই করুক রাজ্য বিধানসভায় এই বিল আমরা কোনোমতে পাস করবো না।’ এছাড়াও তিনি আরো জানান যে, ‘ মাশুল কী হবে তা ঠিক করবে রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার একটি কমিটি তৈরি করে এ রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত হলেও কেন্দ্রের করা আইন সমস্ত রাজ্যের রাজ্য সরকার কার্যকর করতে বাধ্য। এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন যে,’ 2003 সালে যে বিদ্যুৎ আইন করা হয়েছিল সেটাও কেন্দ্র ঠিক করেছিল। যা সমস্ত রাজ্য সরকারকে কার্যকর করতে হয়।

এবার যদি সেই আইন কেন্দ্রে তরফ থেকে সংশোধন করা হয় তাহলেও রাজ্য সরকারকে মেনে নিতে হবে। কিন্তু কোনো রাজ্য যদি চাই তাহলে তারা আইন বার করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে যদি কেন্দ্রীয় আইন এবং রাজ্যের আইনের মধ্যে লড়াই হয় তাহলে সবচেয়ে আগে প্রাধান্য পাবে কেন্দ্রীয় আইন।’ কিন্তু এক্ষেত্রে আরেকটি নিয়ম রয়েছে যা হল, যদি কোনো রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় আইনের পরিবর্তন করতে চাই তাহলে রাস্ট্রপতির অনুমতি বাধ্যতামূলক।

Related Articles

Back to top button