মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণাঃ রেড-অরেঞ্জ-গ্রীন জোনে ভাগ করে 21 শে মে পর্যন্ত জারি থাকবে লকডাউন

ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের জেলাগুলিকে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি কেমন তা খতিয়ে দেখতে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে 9 টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। আর এই বৈঠকের দ্বারা বেরিয়ে এসেছে বড় ইঙ্গিত যেখানে জানতে পারা যাচ্ছে আগামী মে মাসের 3 তারিখে পর করোনা সংক্রমণের গ্ৰীন জোন নামে পরিচিত এলাকা এবং জেলাগুলিতে শুরু করা হতে পারে স্বাভাবিক জনজীবন। তবে এখন নবান্ন সূত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন এই লকডাউন এর সময়সীমা আগামী 21 শে মে পর্যন্ত জারি থাকবে।

আর এই লকডাউন জারি রাখার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নিতে শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার যেখানে সংক্রমনের হার দেখে গোটা রাজ্যকে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান প্রধানমন্ত্রীর ভাষা দেখে মনে হল এরকম লকডাউন এর অবস্থা আগামী দিনেও চলবে, আর এই লকডাউনকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্র। তাই আমরাও এর পাশাপাশি প্রস্তুতি রাখছি একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিন নবান্নে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন আগামী 21 শে মে পর্যন্ত সাবধানে চলতে হবে যা আমি আগেও বলেছিলাম আপনাদের। 49 দিন সাবধানতা বজায় রাখতে হবে মুখ্যমন্ত্রী এইদিন বলেন করোনা সংক্রমণ অনুসারে রেড অরেঞ্জ এবং গ্ৰীন জোন হিসাবে চিহ্নিত জায়গাগুলি প্রকাশিত করা হবে।যার ফলে মানুষকে নিজে থেকে সচেতন হতে হবে আর সতর্ক থাকতে হবে এই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে। এর পাশাপাশি তিনি আরো জানান যে এই করোনা বিষয়ক মন্ত্রী গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে তার সভাপতিত্ব করবেন অমিত মিত্র যেখানে থাকবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম।

আর মুখ্যমন্ত্রী জানান রাজ্যের হোম ডিলিভারির এক্ষেত্রে যেগুলি রয়েছে সেগুলোতে শুধুমাত্র অত্যাবশ্যক পণ্য নয়, সব পণ্যই ছাড় দেওয়া হবে।এর পাশাপাশি এই লকডাউন প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তিনি অভিযোগ করেন কেন্দ্রের এই বিষয় নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই।তিনি জানান একবার কেন্দ্র বলছে কড়া হাতে লকডাউন কার্যকর করতে আবার অন্যদিকে সব দোকান খুলে দেওয়ার জন্য সার্কুলার জারি করছে।
তাই সমস্ত দোকান যদি খুলে দেওয়া হয় তাহলে তো রাস্তায় লোকজন বেড়িয়ে পড়বে আর আমিই বা তাদের কীভাবে আটকাবো, এই বলে তিনি অভিযোগ করেন কেন্দ্রের দিকে।এর পাশাপাশি অভিযোগ করেন কেন্দ্র কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাজ্যের সঙ্গে কোনো পরামর্শ নিচ্ছে না, তিনি বলেন আমি মুখ্যসচিবকে বলেছি ক্যাবিনেট সচিব এর কাছ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে, আর সেই ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে দোকানপাট খোলার ব্যাপারে বুধবার দিন আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো। তবে এখানেই শেষ নয় এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলেন জারি রয়েছে লকডাউন আর এই লকডাউনের ফলে মানুষ খাবে কী? কারণ এই লকডাউনের জেরে বন্ধ রয়েছে চা-বাগান বন্ধ রয়েছে 100 দিনের কাজ, বন্ধ রয়েছে চটকল, যার ফলে প্রয়োজনীয় টাকা নেই মানুষের কাছে, তাহলে কেন্দ্র দায়িত্ব নিক এইসব মানুষগুলোর প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে 10000 টাকা করে পাঠাক তাতে মানুষ খেতে পেয়ে বাঁচবে। শুধু ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করলে বাস্তবতার পরিবর্তন হবে না। তার পাশাপাশি লকডাউন নিয়ে বলেন আমরা সংক্রমণের হার অনুযায়ী এবার রাজ্যের বিভিন্ন জোনকে চিহ্নিত করে দেবো আর এক্ষেত্রে রেড জোন গুলিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, তেমনি অরেঞ্জ বা গ্ৰীন জোন গুলিতে যেখানে করোনা সংক্রমনের হার কম সেখানে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।