রূপচর্চায় ভাতের মাড়ের ব্যাবহার জানলে চমকে যাবেন আপনিও, ত্বক থেকে শুরু করে চুলের যত্ন! সবেতেই হিট ভাতের মাড়

ঝরঝরে ভাত সব বাঙালিরাই পছন্দ করেন । এছাড়া দীর্ঘদিন মাড় যুক্ত ভাত খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ ভাতের মাড়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ । কিন্তু এই ভাতের মাড় আমরা সাধারণত ফেলে দিই । কিন্তু আপনি কী জানেন এই ভাতের মাড় ত্বক থেকে চুল রূপচর্চার প্রতিটি ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তাই এবার থেকে ভাতের মাড় না ফেলে সেটাকে রূপচর্চার কাজে লাগান।

রূপচর্চার জন্য সাধারণত মহিলারা অনেক নামি-দামি কোম্পানির প্রোডাক্ট কিনে থাকে। কিন্তু ঘরোয়া পদ্ধতিতে এমন অনেক কিছু উপাদান থাকে যার সাহায্যে আমরা সহজেই রূপচর্চা করতে পারি । অনেক টোটকা আছে যা সহজেই ঘরে মেলে। এমনই একটি উপাদান হলো ভাতের মাড়। চুল ও ত্বকের জন্য ভাতের মাড়ের উপযোগিতা অপরিসীম।

ভাতের মাড় আপনার ত্বক ও চুলের কী কী কাজে দেয় আসুন তা জেনে নেওয়া যাক। আপনার ত্বকে যদি কোন চুলকানি বা আ্যলার্জি প্রবণতা থাকে তাহলে ভাতের মাড় তার জন্য খুবই উপযোগী। প্রতিদিন স্নানের জলের সাথে এই ভাতের মাড় মিশিয়ে স্নান করলে ত্বকের সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ত্বকে যদি কোনো ব্রণ বা ফুসকুড়ি হয় তাহলে সেখানে ঠান্ডা হওয়া ভাতের মাড় লাগালে ব্রণ কমে যায় ।

ভাতের মাড় ট্যান পড়ে যাওয়া ত্বকের জন্য খুবই উপকারী । যেহেতু এতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ থাকে তাই ত্বকের যেকোনো পিগমেন্টেশনের খুব ভালো কাজ দেয়। ভাতের মাড় ঠান্ডা করে এর সাথে একটু কাচা দুধ মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসাবে মুখে রেখে 10 মিনিট পর ধুয়ে দিলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। ত্বক উজ্জল করতে ,চোখের তলার কালি দূর করতে অর্থাৎ ডার্ক সার্কেল থেকে মুক্তি পেতে এবং সমস্ত রকম পিগমেন্টেশন থেকে মুক্তি দিতে ভাতের মাড় খুবই উপযোগী। ভাতের মাড়ে নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ এবং উজ্জ্বল।

শুধুমাত্র ভাতের মাড় নয়, ভাতের মাড়ের সাথে সাথে সিদ্ধ হওয়া ভাত একটু চটকে দুধ দিয়ে যদি আপনি মুখে মাখেন তাহলে জেল্লা ফিরতে পারে। এছাড়া ফার্মেন্টেড রাইস ওয়াটার ব্রাইটেনিং টোনারের কাজ দেয়। বিভিন্ন কোরিয়ান ব্র্যান্ডে এই ফরমেন্টেড রাইস ওয়াটার এর টোনার সিরাম কিনতে পাওয়া যায়।

ত্বকের পর আসি এবার চুলের কথায়। চুলের যত্নেও ভাতের মাড়ের গুন অপরিসীম। ভাতের মাড় ঠান্ডা করুন তারপর সেই ঠান্ডা হওয়া ভাতের মাড়ের সাথে জল মিশিয়ে শ্যাম্পু করার পর সেই জল দিয়ে চুল ধোবেন ।এটি চুলের জেল্লা বাড়াবে এবং চুলের ডগা ফাটা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। চুলের গোড়াও মজবুত হয়। সুতরাং এবার থেকে ভাতের মাড় না ফেলে আপনার রূপচর্চার কাজে প্রতিদিন এটি কে কাজে লাগান।