চীনকে শায়েস্তা করতে 3 হাজার সৈনিক আর 90 টি লড়াকু বিমান নিয়ে আন্দামানে পৌঁছাল আমেরিকা

ভারত এবং চীনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে গেছে। অপরদিকে আবার চীনকে শায়েস্তা করার জন্য আমেরিকা নয়া পদক্ষেপ নিল। আমেরিকা ইতিমধ্যেই সাউথ চায়না সমুদ্রে থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নৌসেনার পেট্রোলিং বাড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপ বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে চীনকে। এই সাউথ চায়না সমুদ্র চীনের একেবারে পাশেই অবস্থিত। সাউথ চায়না সমুদ্রে যুদ্ধঅভ্যাস শেষ করার পর আমেরিকার নেভির এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার USS Nimitz এবার আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পৌঁছে গেছে।

আপনাদের জানিয়ে দেই যে এই এলাকায় ভারতীয় নৌ সেনারা এর আগেই যুদ্ধ অভ্যাস করছেন।ভারত মহাসাগরে চীনের গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্য আমেরিকার তরফ থেকে তিনটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ওই জায়গায় মোতায়েন করে দিয়েছে। তবে সাউথ চায়না সমুদ্রে আমেরিকার এখনো পর্যন্ত একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার USS Ronald Reagan মোতায়েন করে রেখেছে। আর আমেরিকার এই গতিবিধি দেখে চীন যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে বারবার।

আমেরিকার USS Nimitz এয়ারক্রাফট খুবই শক্তিশালী। এই শক্তিশালী এয়ারক্রাফটটি 1975 সালের 3 মে আমেরিকার নৌ সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই এয়ারক্রাফটটি 332 মিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে 90 টি লড়াকু বিমান হেলিকপ্টার ছাড়াও আরো তিন হাজার সেনা থাকতে পারবে।আপনারা জানিয়ে দিই, 1971 সালে যখন ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাধে তখন আমেরিকার এই শক্তিশালী এই এয়ারক্রাফটটি বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যে ভারতীয় সেনার হাতে বিপর্যস্ত হওয়া পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করা। কিন্তু ঠিক এই সময়ে রাশিয়া ভারতের পাশে দাঁড়াই।

যার ফলে আমেরিকা এই এয়ারক্রাফট টিকে সরাতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে চীনকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত, আমেরিকা, জাপান আর অস্ট্রেলিয়া। ফলে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে এবার যদি চীন কোন বাড়াবাড়ি করে তাহলে তার ফল ভুগতে হবে তাদেরকে। ভারত মহাসাগর থেকে চীনের ব্যবসার একটা বড় অংশ এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। অপরদিকে আবার এই রাস্তা দিয়ে চীন তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যায়। ফলে ভারতীয় নৌসেনার যদি এই রাস্তাটি ব্লক করে রেখে দেয় তাহলে চীন আর্থিক দিক থেকে অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চীনের সাথে পাকিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও এখনো পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে ইকনোমিক করিডোর গড়ে উঠেনি তাই সেই রাস্তা দিয়ে চীন কোনরকম দ্রব্য আমদানী রপ্তানী করতে পারবে না। চীন এবং ভারতের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমে বাড়ছে আর এর মাঝেই আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশে যুদ্ধ অভ্যাস করছে। যাতে সময় এলে চীনকে কড়া জবাব দেওয়া যায়। এরমধ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ জাহাজ, ডুবোজাহাজ সহ আরও পেট্রোলিং এয়ারক্রাফট রয়েছে। এছাড়াও ডুবোজাহাজ কে খুঁজে বার করার জন্য একটি বিশেষ ধরনের এয়ারক্রাফট রয়েছে ভারতীয় নৌসেনার কাছে। এর নাম হল Poseidon-8 । এছাড়াও রয়েছে MK-54 লাইটওয়েট টরপিডোও যুদ্ধজাহাজ।

More Stories
পুরভোটের আগে রাজ্যে CAA”-এর সমর্থন প্রচারে আসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ