অশিক্ষিত নাগরিকরা দেশের জন্য বোঝা! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যে সৃষ্টি বিতর্ক

দেশের মধ্যে কিছু অশিক্ষিত নাগরিক মানেই তারা হল একটি দেশের জন্য বোঝা। এমনই মনে করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ! কেন্দ্রের দ্বারা গত কিছুদিন আগে সদ্য লঞ্চ করা একটি সংসদ টিভি এর এক সাক্ষাৎকার এর মাধ্যমে অমিত শাহ বলেছেন, “অশিক্ষিতরা কখনওই নাগরিক হিসাবে ভালো হতে পারেন না।” সংসদ টিভি এর এই ইন্টারভিউ এ একটি মানুষ এর জীবনে শিক্ষা একটি কতো বড়ো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে অমিত শাহ মন্তব্য করে জানিয়েছেন,” একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি দেশের জন্য বোঝা।

কারণ তিনি জানেন না সংবিধান তাঁকে কী কী অধিকার দিয়েছে। তেমনই তিনি জানেন না দেশের প্রতি তাঁর কী কী দায়িত্ব এবং কী কী কর্তব্য। এই ধরনের ব্যক্তি কীভাবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হতে পারেন?” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর বক্তব্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন প্রশাসক হিসাবে প্রথম থেকেই একটি ব্যাক্তির জীবনে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণতা বোঝেন। তাই তাঁর বিজেপি সরকার বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্র কে প্রাথমিক স্তরে বিভিন্ন ভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর এই শব্দ নির্বাচন করতে গিয়ে যে ভুল শব্দ বেছে নিয়েছেন সেটি নিয়েই এক প্রকার বিতর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে গোটা দেশে। অনেকে ব্যাক্তি মনে করছেন শব্দ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আরও একটু সতর্ক হতে পারতেন আমদের দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কারণ, কোনো ব্যাক্তি যদি অশিক্ষিত হয় তাও কিন্তু তিনি একজন দেশের নাগরিক। একজন দেশের নাগরিক হিসাবে বাকি আরো পাঁচজন শিক্ষিত ব্যাক্তির মতোই সমান সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে সেই ব্যাক্তির ও।

Advertisements

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর দ্বারা করা এই রকম এক মন্তব্য সেই সমস্ত বিভিন্ন কারণ সেটা আর্থিক অথবা সাংসারিক কারণে পড়ালেখা না জানা নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। স্বাভাবিক ভাবে কিছু তথ্য অনুযায়ী ভারতের প্রায় ৩০ শতাংশ এরও বেশি লোকজন নিরক্ষর , পড়াশোনা জানেন না তারা। এঁদের মধ্যে একাংশয় নানা পরিস্থিতির চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে পড়াশুনো করতে পারেননি। অনেকের এলাকা তে তো আবার এখনও আবার শিক্ষার প্রতিষ্ঠান এর সুব্যবস্থা এসে পৌঁছায়নি।

Advertisements

প্রসঙ্গ তে বলে দেওয়া ভালো, ওই একই ইন্টারভিউ এ অমিত শাহর দ্বারা করা আরও একটি মন্তব্যে নেটপাড়ায় বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন কম। বেশি শুনতে পছন্দ করেন। কোনও বৈঠকে যদি কোনও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়, তা হলে মোদিজি সেই আলোচনায় কথা কম বলেন, উল্টে ধৈর্য সহকারে শোনেন বেশি। তার পরে সিদ্ধান্ত নেন। দু’-তিনটি বৈঠকের পরে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নেন।”