গত 70 বছর ধরে লন্ডন হাইকোর্টে ভারতের সাথে চলতে থাকা মামলায় হার হল পাকিস্তানের এবার নিজামের 300 কোটি টাকা পেতে চলেছে ভারত

দীর্ঘ 17 বছর ধরে পাকিস্তান ইংল্যান্ডের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত হায়দরাবাদের নিজামের যে 10 লক্ষ্য পাউন্ড গচ্ছিত ছিল তা পাকিস্তান বরাবরই নিজেদের বলে দাবি করে আসছিল। আর এই বিষয় নিয়ে মামলা চলছিল দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সাথে ভারতের।এই সম্পত্তির দাবিদার হিসাবে নিজামের যে প্রকৃত বংশধর যার নাম প্রিন্স মুকাররাম জাহ সে ভারতের হয়ে এই মামলায় অংশ নিয়েছিল। আর শেষমেশ ভারতের পক্ষেই রায় দিল সেই লন্ডন হাইকোর্ট।

গত বুধবার দিন লন্ডনের হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় নিজামের ওই সম্পত্তিতে পাকিস্তানের কোন প্রকার অধিকার নেই, সাথে সাথে এই দিন আদালত আরো জানিয়ে দেয় নিজামের বংশধরই প্রকৃতপক্ষে ওই টাকার অধিকারী। আপনাদের সুবিধার্থে বলে রাখি 1847 সালের হায়দ্রাবাদে তৎকালীন নিজাম ওসমান আলী খান ব্রিটেনে পাকিস্তান হাইকমিশনারের কাছে 10 লক্ষ পাউন্ড নিরাপদে রাখার জন্য দিয়েছিলেন।

তবে দেশভাগের পরেও ওসমান আলীখান পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিলেও তিনি থেকে যান ভারতেই।এমনকি তার শেষ জীবনও কাটে ভারতেই। আর 1967 সালে হায়দরাবাদের নিজামদের তাদের প্রসাদের মধ্যেই মৃত্যু হয়। তবে আরো বলে রাখি ওসমান আলী খানের জীবনের দশাতেই এই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা হয়েছিল তবে সেই সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার হাবিব ইব্রাহিম রহিমতোলার ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের একাউন্টে বিপুল অর্থ গচ্ছিত রাখা হয় আর তারপর এই অর্থকে তারা নিজেদের বলে দাবি করে তখন পাকিস্তান।

তবে এখন আরো বলে রাখি যে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের প্রকৃত নিজাম ওসমান আলী খানের সেই 10 লক্ষ পাউন্ডের রাশিটি বর্তমানে সুদে-আসলে বেড়ে প্রায় 3.5 কোটি পাউন্ডের দাঁড়িয়েছে। যাকে ভারতীয় মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় দাঁড়ায় 306 কোটি টাকার মতো। গত 2013 সালে পাকিস্তান দাবি করেছিল যে নিজাম ওসমান আলি খানের ওই অর্থ তাদের পাকিস্তান সরকারের প্রাপ্য। তবে গতকাল লন্ডনের রয়েল কোর্ট অফ জাস্টিস এর বিচারক মার্কাস স্মিথ পাকিস্তানের এই দাবি খারিজ করে দেয় এবং তাদের দাবির সপক্ষে তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানান তিনি, তাই নিজামের ওই অর্থ সম্পত্তিতে পাকিস্তানের কোন অধিকার নেই বলে জানিয়ে দেন এইদিন এই বিচারক।

অর্থাৎ আজ দীর্ঘ 70 বছর পর লন্ডন কোর্টের তরফ থেকে যে রায়টি বেরিয়ে এল সেটি ভারতের সাপেক্ষেই যার জন্য এটি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আরেকটি কূটনৈতিক জয় বললে খারাপ হবে না।

Related Articles

Close