ধেয়ে আসছে ঘন্টায় ১৭০ কিলোমিটার বেগে টাইফুন ‘ছান্তু ‘ ! ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাতে দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ

সকাল থেকে কালো করে রয়েছে আকাশ, মাঝে মধ্যে চলছে বৃষ্টি। কখনো হালকা তো, আবার কখনো ভারী বৃষ্টি চলছে। সঙ্গে প্রবল বেগে বইছে দমকা হাওয়া। কার্যত প্রবল দুর্যোগ আছড়ে পড়ার আগে আতঙ্কের ছবি। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, ঘন্টায় ১৭০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে চলেছে টাইফুন ‘ছান্তু ‘। এই টাইফুনের কারণে ব্যাপক লন্ডভন্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,বিশেষ করে সাংঘাই শহর ও তার আশেপাশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে চলতে পারে বিশেষ ধ্বংসলীলা। আর সেই কারণেই এখন থেকে সতর্ক হবার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি চীনে ও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

এই টাইফুনের কারণে রবিবার থেকে চীনে বিশেষ সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সুপার টাইফুন থেকে’ অতি শক্তিশালী’টাইফুনে রূপ নিয়েছে এটি। তবে এই টাইফুন যখন স্থলভাগের ওপর আচড়ে পড়বে তখন এর গতিবেগকিছুটা হলেও কমে যাবে বলে আশাবাদী সেই দেশের আবহাওয়াবিদরা। তবে তাঁরা বলছেন, টাইফুনের আঘাত হানার ক্ষমতা কমলেও হাওয়ার গতিবেগ অত্যন্ত বেশি হবে। এরই সঙ্গে উপকূলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন চীনের আবহাওয়াবিদরা।

তবে প্রতি মুহূর্তে আবহাওয়াবিদরা শক্তিশালী ওই টাইফুনের গতি প্রকৃতির ওপর নজর রাখছেন। আর সেই অনুযায়ী দেশের প্রশাসন থেকে নাগরিকবৃন্দ কে সচেতন করে যাচ্ছে। টাইফুনের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর সেই কারণেই উদ্ধারকারী দল কে তৈরি রাখা হয়েছে। ঝড়ের তান্ডব বন্ধ হয়ে গেলেই, দ্রুত উদ্ধার কাজে নামার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূল এলাকা থেকেও মানুষজনকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শক্তিশালী এই টাইফুনের কারণে বেশ কয়েকটি শহরের সঙ্গে রেলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সমস্ত স্কুল-কলেজ ও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড়ের তান্ডব এর আশঙ্কাতে দ্রুত পুডং বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত কোন বিমান উড়ছে না। এছাড়া অপর একটি বিমানবন্দর হংকিওতে ও ঝড়ের আছড়ে পড়ার আগে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সাংঘাই শহর ই মূলত টাইফুনের আঘাত পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হলেও জিজিআং প্রদেশে ও জারি হয়েছে বাড়তি সর্তকতা।জানা গিয়েছে, জিজিআং শহরের নয়টি জেলাতে লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে। চায়নার দ্বিতীয় বড় বন্দর ‘নিঙবো বন্দর’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে টাইফুনের তাণ্ডব চলাকালীন সমস্ত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য,গত কয়েকদিন আগেও চীনে একইভাবে আরো একটি টাইফুন আছড়ে পড়েছিল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আর সেই কারণেই প্রশাসন এই টাইফুনের ক্ষেত্রে আগাম সর্তকতা অবলম্বন করছে।