দেশনতুন খবরবিশেষভারতীয় সেনা

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নজরদারিকে আরও নিখুঁত করতে ভারতে আসছে আরো দুটি ফ্যালকন

সম্প্রতি গালওয়ান উপত্যকা তে ভারত-চীন সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই বর্তমানে চীন এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এই ঘটনা 3 মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সমঝোতার ফল খুব একটা ভালো দিকে এগোতে যেতে দেখা যায়নি তাই এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে কূটনৈতিক রাস্তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। শুধু তাই নয় তিনি আরো জানিয়েছেন যে, 1962 সালের পর চীনের সাথে সংঘর্ষের উত্তাপ এই পর্যায়ে আগে কখনো পৌঁছায়নি।

 

তাছাড়া এর আগে গত সোমবার দিন চিপ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াতকেও এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায় যেখানে তিনি জানান আলোচনার মাধ্যমে যদি পরবর্তীকালে এই সমস্যার সমাধান না ঘটে তাহলে চীন সীমান্তে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যার দরুন ইতিমধ্যে সামরিক দিক থেকে আরও মজবুত করতে ইসরাইলের কাছ থেকে আরও দুটি ফ্যালকন এয়ানবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা অ্যাওয়াকস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটির মাধ্যমে মূলত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) চীনের উপর নজরদারি চালানো হবে বলে জানা যাচ্ছে।

আর প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী এটাও জানতে পারা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির তরফ থেকে এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করা হতে পারে। উল্লেখ্য এই মুহূর্তে ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে তিনটি ফ্যালকন রয়েছে রাশিয়ার তৈরি সামরিক পরিবহন বিমানে আইএল-76- এ বসানো এই ইজরাইলি নজরদারি ব্যবস্থার মূলত কাজ হল ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশের চোখ হিসাবে কাজ করে থাকা,কারণ এটির মাধ্যমে ফাইটার বিমান গুলিকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করা যায় এবং তাদেরকে চিহ্নিত করা যায়। তাছাড়া এটি শত্রুপক্ষের বিমান বাহিনীর তৎপরতা ওপর নজরদারি কাজও করতে সক্ষম তাই বায়ুসেনা এটিকে আকাশের চোখ নামে অবহিত করেছেন।

আর আরো একটি কথা বলে রাখি গত বছর পাকিস্তানের বালাকোট জঙ্গী শিবিরে হামলাকারী বারো’টি মিরাজ- 2000 কাজকে সফল ভাবে পরিচালনা করেছিল এই ইজরাইলি এয়ানবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা অ্যাওয়াকস। আর এবার ভারত যে দুটি ফ্যালকন কিনতে চলেছে তার আনুমানিক খরচ পড়তে পারে 100 কোটি ডলারের মতো যা ভারতীয় মুদ্রায় দাঁড়াবে প্রায় 7 হাজার 338 কোটি টাকার ন্যায়। তবে এবার শুধু ফ্যালকনই নয় সামরিক বিভাগকে আরও মজবুত করে তুলতে বেশ কিছু সরঞ্জাম কেনার কথাবার্তা করা হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে এমনটাই খবর বেরিয়ে এসেছে। আর এই সবকটি মিলিয়ে আনুমানিক খরচ হবে প্রায় 200 কোটি ডলারের কাছাকাছি।

Related Articles

Back to top button