পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়ে বাংলার নাম উজ্জ্বল করলেন দুই চিকিৎসক, মঞ্চ থেকে জানালেন মানুষকে সেবা করাই তাদের ধর্ম…

26 জানুয়ারি আমাদের দেশের জন্য এই বিশেষ দিন টিতে পদ্মশ্রী পুরস্কারের তালিকা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেই তালিকায় আমাদের বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছেন দুই চিকিৎসক।একজন চিকিৎসক হলেন বিরাটির অরুণদোয় মণ্ডল এবং আরেকজন হলেন বীরভূমের সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। এনারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সেবায় নিযুক্ত ছিলেন।

তাদের এই নিঃস্বার্থ ভাবে সেবা করা কে স্বীকৃতি দেওয়া হল কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে।এছাড়াও বাংলার বহু চিকিৎসক এর আগেও পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন। এবং এই তালিকায় অরুণদয় মন্ডলও রয়েছেন। তিনি নিঃস্বার্থভাবে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষদের জন্য সেবা করে আসছেন। তিনি প্রান্তিক মানুষদের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতেন। প্রত্যেক সপ্তাহের শেষে কলকাতা থেকে 6 ঘন্টা পথ অতিক্রম করে পৌঁছে যেতেন সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকায়। এবং এনার অপেক্ষায় প্রান্তিক এলাকার কয়েকশো রোগী বসে থাকতেন।

এদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশই গরীব এবং অসহায় মানুষ থাকতেন। এবং শনিবার ওই এলাকায় রাত কাটিয়ে রবিবার সকাল থেকে তার চালু হত রোগী দেখা। এই অরুনাদয় বাবুর বাড়ি হল বাঙুর অ্যাভিনিউতে। জানা গিয়েছে শনিবার সকালেই সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাসনাবাদ লোকালে উঠে পড়েন তিনি। সেই সঙ্গে থাকে একটি ওষুধের ব্যাগ। এরপর হাসনাবাদ স্টেশনে নামার পর ভ্যান রিক্সা ভাড়া করে নদী ঘাট পর্যন্ত যান তিনি। এরপর নৌকা দিয়ে নদী পেরোবার পর বাসের দেড় ঘন্টা পথ অতিক্রম করে পৌঁছান লেবুখালি।

আবার নৌকায় চেপে রায়মঙ্গল নামক একটি নদী পেরিয়ে দুলদুলির এর ঘাটে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে আবার তিনি অটোতে চেপে সাহেব খালি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দায়পাড়ায় রয়েছে তার ‘সুজন চিকিৎসা কেন্দ্র’। অরুণোদয় বাবুকে সুন্দরবনের মানুষেরা সুজন নামেই চিনেন । এমনকি তিনি যে রোগী দেখে প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দেন তা নয়, সেই প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধগুলিও জোগাড় করে দেন তিনি। এমনকি ওখানে নিয়ম করে রক্তদান শিবির চলে।

এনার মত মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন আরেক চিকিৎসক সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে তিনি একজন বিশ্বভারতীর পাঠভবনের ছাত্র ছিলেন। এরপর তিনি আরজিকর থেকে ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যান তিনি। এনার প্রথম কর্মক্ষেত্র হলো বিশ্বভারতীর পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে। এর পাশাপাশি সেখানে তিনি ডাক্তারি করা ছাড়াও গরিব মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। সেখানে তিনি হাসপাতালে রোগী দেখার ছাড়াও নিজের বাড়িতে রোগী দেখতেন তাও আবার এক টাকার বিনিময়।

এই এক টাকায় রোগী দেখার কাজ তিনি 1963 সাল থেকে এখনো পর্যন্ত করে যাচ্ছেন। তার এই মহান কৃতিত্বের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়। এই সম্মান পাওয়ার পর চিকিৎসক সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,” আমার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের সেবা করা। মানুষ রোগ মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এটাই আমার শান্তি। এই পুরস্কার পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।”

Related Articles

Close