সত্যি মুকেশ আম্বানির মতো ভাই যেন ভগবান সবাইকে দেয়। লড়াই করে আলাদা হয়ে যাওয়া ভাই কেউ জেল যাবার হাত থেকে বাঁচালেন…..

কেউ এই কথাটা ঠিকই বলেছেন ভাই এর চেয়ে বড় কোনো বন্ধু নেই আর ভাইয়ের চেয়ে বড় কোনো সহযোগী নেই আর এর উদাহরণ আমাদের প্রাচীন গ্রন্থ গুলিতে পেয়েছি। কিন্তু আজকে বর্তমানের কথা যদি বলা হয় তো আমাদের ভারতের সবচেয়ে ধনী উদ্যোগপতি মুকেশ আম্বানি ,যার খ্যাতি সারা ভারতে ছড়িয়ে রয়েছে তিনি আজ এই কথাটির সত্যতা জানিয়ে দিলেন।এটা সবাই জানে যে মুকেশ আম্বানি এবং তার ভাই অনিল আম্বানির পিতা ধীরুভাই এর মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলার জন্য তারা সম্পত্তি ভাগ করে নিলেন এবং তারা নিজের নিজের ব্যবসায় লেগে পড়লেন। পুরনো সব বিভেদ ভুলে ভাইয়ের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন দাদা।

আর এর জন্য রিলায়েন্স কমিউনিকেশন লিমিটেড কোম্পানির চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি নিজের বড় ভাই মুকেশ আম্বানি কে ধন্যবাদ জানালেন।আপনাদের বলে রাখি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ও স্ত্রী নিতা আম্বানি যৌথভাবে অনিল আম্বানির ঋণ শোধ করতে সাহায্য করেছেন। মুকেশ আম্বানি মিটিয়ে দিলেন ভাইয়ের কোটি কোটি টাকা বকেয়া। তবে এ ঋণের পরিমাণ শুধু এক লাখ বা দু লাখ নয় ঋণের পরিমাণ ছিল 550 কোটি টাকার মতো। অনিল আম্বানি এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক বকেয়া মিটিয়ে দিলেন মুকেশ আম্বানি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এরিকসনকে 550 কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল অনিল আম্বানির। আর সেই টাকার পুরো অংশটায় ইতিমধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে Rcom এর তরফ থেকে।সুইডিশ সংস্থা এরিকসন সুদসহ প্রায় 580 কোটি টাকা দিয়েছে রিলায়েন্স এর ফলে জেল যাত্রা এড়াতে পারলেন অনিল আম্বানির। 2014 সালে সুইডিশ কোম্পানির সঙ্গে অনিল আম্বানি সংস্থা চুক্তি হয়েছিল এই চুক্তি অনুযায়ী সাত বছরের জন্য এদেশে রিলায়েন্স টেলিকম নেটওয়ার্ক সামলানোর ভার পেয়েছিল এরিকসন।

তবে সেই 1500 কোটি বিপুল পরিমাণ টাকা না মেটানোর দরুন রিলায়্যান্সের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপীলেট ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলএটি) -এর দ্বারস্থ হয় এরিকসন। পরে এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শেষমেষ সেখানে 1500 কোটি টাকার পরিবর্তে 550 কোটি টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার রফাদফা হয় দুই সংস্থার মধ্যে এবং গত 30 শে মে রিলায়েন্স কে 120 দিনের মধ্যেই এই বকেয়া টাকা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু এই টাকা মেটাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিলো রিলায়েন্স ফের আদালতে যায় এরিকসন গত মাসে ফেব্রুয়ারিতে এই মামলায় ফের শুনানি হয় এবং এখানে দোষী সাব্যস্ত হয় অনিল আম্বানি। আদালত অনিল আম্বানি কে নির্দেশ দেয় 19 মার্চ এর মধ্যে টাকা না মেটাতে পারলে অনিল আম্বানি কে জেল খাটতে হবে। কিন্তু একদিন বাকি থাকতেই সে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিলেন দাদা মুকেশ আম্বানি অনিল আম্বানির হয়ে।

ভাই অনিল কে বাঁচিয়ে নিলেন জেল যাবার হাত থেকে। 2002 সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানি মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র অনিল ও মুকেশ আম্বানি নিজেদের সম্পর্কে তিক্ত হতে থাকে।ও পরে তারা দুজনে গোষ্ঠীর ব্যবসার দায়িত্ব কে ভাগাভাগি করে দেখতেও শুরু করে দেয়। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতিতে পুরনো সব দ্বন্দ্বের কথা ভুলে নিজের ছোট ভাইয়ের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন মুকেশ আম্বানি।