রাজ্য রাজনীতিতে আবারও বেসুরো হাওয়া, ২০০০ জন কর্মী সমর্থক নিয়ে বিজেপিতে যোগ তৃণমূল কাউন্সিলের

রাজ্যে ২৭ মার্চ থেকে ভোট পর্ব শুরু হয়ে গেছে। বিধানসভা ভোটের বেশ কিছুদিন আগে থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ধস নামছে। শ্রাবন্তী মজুমদার, শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী প্রমূখ হেভিওয়েট নেতারা পৌঁছে গিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। ৩০ মার্চ তৃণমূল শিবিরে আবারো দেখা গেল বেসুরো হাওয়া বইতে।

 

রাজ্যে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল অর্থাৎ ১ এপ্রিল হতে চলেছে বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোট। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বিভিন্ন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা তৃণমূল ছেড়ে যোগদান করেছে বিজেপি শিবিরে। আজও এই দলবদলে ধারার পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে। এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন গঙ্গারামপুর টাউনের তৃণমূল সভাপতি তথা ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক বর্ধন।

কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে অশোক বর্ধন নাকি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন। এবার সমস্ত জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে গেরুয়া শিবিরের খাতায় তিনি নামটা লিখিয়েই ফেললেন। মঙ্গলবার ৩০ মার্চ দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিজেপির পার্টি অফিসের সামনে বিজেপির এক সভাতে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন তৃণমূলের এই কাউন্সিলর। তবে এবার বিজেপিতে যোগদানে তিনি একা নন। তাঁর সাথে বিজেপিতে যোগদান করেন আরো ২০০০ জন তৃণমূল সমর্থকরা।

বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং গঙ্গারামপুরের বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের হাত ধরেই মূলত তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক বর্ধনের বিজেপিতে আসা। বিজেপিতে যোগদান করে অশোকবাবু জানিয়েছেন যে তৃণমূল এখন দুর্নীতিতে ভরে গেছে। নিজের ভাবমূর্তিকে ঠিক রাখার জন্যই তিনি পৌঁছে গেছেন গেরুয়ার দরবারে। এর পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন যে ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে গেরুয়ার জয়কে নিশ্চিত করার জন্য তিনি কোমর বেঁধে মাঠে নামবেন।

 

আগে এই গঙ্গারামপুর ঘাঁটি ছিল সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সালে বাংলার সিংহাসনে তৃণমূল বসার পর আস্তে আস্তে গঙ্গারামপুর তৃণমূলের দখলে চলে আসে। এরপর ২০২১ সালে দেখা যাচ্ছে এই ঘাঁটি আস্তে আস্তে বিজেপির হাতে চলে আসছে।