আজই ঘূর্ণবাত বদলাতে চলেছে গভীর নিম্নচাপে, বাংলার একাধিক জেলা জুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বেশ কয়েক দিন তাপদাহে আমাদের সকলকে পুড়িয়ে দেবার পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এসেছিল কালবৈশাখী। শুধুমাত্র একদিন নয়, পরপর তিন দিন টানা কালবৈশাখীর ঝড়  এবং বৃষ্টিপাতের হলে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। আজ ফের আরও একবার কলকাতা এবং তার আশেপাশের আবহাওয়া মেঘলা। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের বৃষ্টিপাত আপাতত চলবে। দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জায়গায় বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে ঝড়ো হাওয়া।

বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘন্টা উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মনে করা হচ্ছে আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে।

উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৪৮ ঘন্টায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে কোন কোন জেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আপাতত দিনের তাপমাত্রা তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে ফলে আকাশ থাকতে পারে আংশিক মেঘলা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্বাভাবিকের থেকে ১ বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা থাকতে পারে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি।

এবার আসি ঘূর্ণিঝড়ের কথায়। দক্ষিণ আন্দামান সাগর এবং সন্নিহিত এলাকায় একটি ঘূর্ণবাত অবস্থান করছে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ৬ মে নাগাদ একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে যা ক্রমশ উত্তর এবং পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অথবা উড়িষ্যা উপকূলে নিম্নচাপ এসে পৌঁছাবে কিনা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী ৬ এবং ৭ মে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দুইদিন সমুদ্রের মৎস্যজীবীদের যেতে মানা করা হয়েছে। এই দুই দিন ঘন্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।