সৌরভ গাঙ্গুলীর এই গুরু মন্ত্র জন্যই আজ বীরেন্দ্র শেহবাগ বিশ্বের কাছে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাত..

1999 সালে অজয় জাদেজার নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল নজফগরের নবাব বা আধুনিক ক্রিকেটের জেন মাস্টার বীরেন্দ্র শেহবাগের। প্রথম প্রথম যখন তিনি ব্যাট করতেন তখন তিনি মিডিল অডারে ব্যাটিং করতে নামতেন, এরপর পরবর্তীকালে তাকে বাংলার মহারাজ সৌরভ গাঙ্গুলী তাকে ওপেনিং করার সুযোগ দেন। আর ব্যাস তারপর আবার কী, এবার বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়ে যান বীরেন্দ্র শেহবাগ।

তবে প্রথম দিকে যখন তিনি ক্রিকেট জগতে এসেছিলেন প্রথম দিক থেকেই তিনি এতোটা মারকুটে ব্যাটসম্যান ছিলেন না, একজন সাধারন ডানহাতি ব্যাটসম্যানের মতোই খেলতে তিনি ভালবাসতেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলার দাদা সৌরভ গাঙ্গুলীর কথা শুনে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট অর্থাৎ বিধ্বংসী ভাবে ব্যাটিংয়ের পরিবর্তন করেছিলেন নিজেকে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে খেলার সময় তিনি শুরুতেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে যখন বীরেন্দ্র শেহবাগকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তখন তিনি বলেন ম্যাচে শোয়েব আক্তারের বল তিনি ভালোভাবে দেখতে পাননি কারণ তার বলের গতি এত জোরে ছিল তার ধারণার বাইরে ছিল সেটি। আর সেই সময় ভালই স্কোর করতে না পেরে মন খারাপ করে তিনি মাথা গুঁজে টিমের একদম পেছনে বসে ছিলেন। আর এমন অবস্থায় তার কাছে যান সৌরভ গাঙ্গুলী তার মানসিক অবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি তাকে এক গুরু মন্ত্র দিয়েছিলেন যা পরবর্তীকালে বিশ্ব ক্রিকেটে একজন বিধ্বংসী মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিল।

যদিও এই বিষয় নিয়ে পরবর্তীকালে বীরেন্দ্র সেহবাগ জানিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী তাকে অনেকটাই সাহস জুগিয়েছিলেন যে সময় তিনি খুব অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। এমন এক অসহায় অবস্থায় তার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী এবং শচীন টেন্ডুলকার। সেই সময় সৌরভ গাঙ্গুলী তাকে বলেছিলেন এর পরের ম্যাচ গুলোতে তুই এত মারবি যেন টিম সেলেক্টারা তোকে বাদ দেবার কথা চিন্তা করতে না পারে। আর তার পরের ম্যাচ থেকেই তিনি দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলতে শুরু করেন। আর তারপর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ।

সৌরভ গাঙ্গুলীর পরামর্শের জন্য একজন সাধারন ডানহাতি ব্যাটসম্যান আজ বিশ্বের কাছে মারকুটে ওপেনার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বোলারদের ধারণা ছিল ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কখনো মারকুটে হতে পারে না। কিন্তু তাদের এরকম এক ধারনায় জল ঢেলে দেয় পরবর্তীকালে বীরেন্দ্র শেহবাগ। তারপর থেকে যে কোন মাঠেই হোক বা যেকোনো পিচে রাতের খেলা হোক কিংবা দিনে খেলা হোক আবহাওয়া যেমনই থাকুক না কেন বোলারদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় তার কাছে টেস্ট হোক কিংবা একদিনের ম্যাচ হোক সবক্ষেত্রেই তিনি একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসাবে খেলে যেতে থাকেন।

Related Articles

Close