আজ শনিবার দিন অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট…

টানা শুনানির পর অযোধ্যা মামলার শুনানি হতে চলেছে আজ শনিবার দিন। আজ শনিবার দিন সকাল সাড়ে 10 টায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। অনেকেই মনে করেছিলেন, পরের সপ্তাহে আসতে পারে এই রায়। তবে এ বিষয়ে দেরি করতে নারাজ প্রধান বিচারপতি। যেমন কী ভারতের ইতিহাসে এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অযোধ্যা জমি মামলার রায়। প্রায় এক শতাব্দীর ও বেশি পুরনো মামলা অযোধ্যা। চূড়ান্ত পর্বে টানা 40 দিন ধরে চলেছে শুনানি।

দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে চলেছে এই নিয়ে জোরালো সওয়াল। অযোধ্যা জমি মামলার চূড়ান্ত শুনানির জন্য, জানুয়ারি মাসে 5 জন বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি অশোক ভূষণ, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, এসএ বোবদে এবং এস আবদুল নাজির। তবে সওয়াল-জবাব শুরুর আগে আদালতের বাইরে মীমাংসার জন্য আরও একবার চেষ্টা করে শীর্ষ আদালত। গত 8 ই মার্চ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এফ.এম ইব্রাহিম কলিফুল্লাহ, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর ও আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে মধ্যস্থতা প্যানেল ও তৈরি করা হয়। দু’পক্ষের আলোচনায় মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় 2 রা অগাস্ট শীর্ষ আদালত জানায়, 6 ই অগাস্ট থেকে এই মামলার নিয়মিত শুনানি হবে।আর তারপরই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়ে মধ্যস্থতাকারী প্যানেল ফের আলোচনা শুরুর কথা বললে আদালতের বাইরে মীমাংসার চেষ্টা চলতেই পারে বলেও জানানো হয়।

তবে, এজন্য শুনানি বন্ধ রাখা হবে না 40 দিন টানা শুনানির শেষে, গত 16 ই অক্টোবর রায়দান স্থগিত রাখে শীর্ষ আদালত। এ বিষয়ে হিন্দুপক্ষের দাবি, অযোধ্যায় মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করা হয়। মুসলিমপক্ষের পাল্টা দাবি, বিতর্কিত জমিতে মন্দিরে প্রমাণ নেই। 1885 সালে আদালত -ও মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। পরে, হিন্দুরা রামজন্মভূমির দাবি তোলেন। হিন্দুদের যুক্তি এএসআইয়ের রিপোর্টে মন্দিরের অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। শিব, পদ্ম, হনুমানের যে প্রতিকৃতি পাওয়া গেছে তা প্রমাণ করে ওই জমিতে হিন্দু মন্দির ছিল। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি এএসআই রিপোর্টের বিজ্ঞানসম্মত কোনো ভিত্তি নেই। পদ্মফুলের প্রতিরূপ ইসলামেও দেখা যায়। তাছাড়া বাবরের আত্মজীবনী বাবরনামায় অযোধ্যায় মসজিদের উল্লেখ নেই বলে আদালতে হিন্দু-পক্ষ যুক্তি দেয়। মুসলিম পক্ষের আইনজীবীদের পাল্টা যুক্তি, বাবরনামার 2 য় ভাগের কিছু পাতা, বহু বছর আগে খোয়া যায়। আর সেখানেই নাকী মসজিদের উল্লেখ ছিল বলে দাবি তার।

এই বিতর্কিত জমিনে 2010 সালের সেপ্টেম্বরে অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।এলাহাবাদ হাইকোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অযোধ্যা জমিকে তিন পক্ষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার। পরবর্তীকালে সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয় দুই পক্ষই। আর আজ শনিবার দিন আসতে চলেছে এর চূড়ান্ত রায়।

Related Articles

Close