মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে মিলছে ১০ টাকা সস্তায় পেট্রোল, তেল কিনতে উপচে পড়ছে জনগণের ভিড়

সম্প্রতি বেশ কিছু মাস ধরে খবরের শিরোনাম ছিনিয়ে নিয়েছে পেট্রোল এবং ডিজেল। এই দুটি পেট্রোপণ্যের দাম উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু উপায় ছিল না কিছু। অবশেষে ভোটের কিছু মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, পেট্রোপণ্যের ওপর বাড়তি কর তুলে দেওয়া হবে। বিজেপি শাসিত বেশকিছু রাজ্যে এই নিয়ম চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতবর্ষের প্রথম সারির বেশকিছু রাজ্য এখনো পর্যন্ত এই নিয়ম মানতে নারাজ, তাই পেট্রোল এবং ডিজেল এই দুই ভাইকে নিয়ে রাজনৈতিক তরজা রয়েছে তুঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গের পাশেই রয়েছে অসম, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহমত পোষণ করে পেট্রোল এবং ডিজেলের ওপর থেকে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অসমে বর্তমানে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৪.৫৮ টাকা ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮১.২৯ টাকা।

কিন্তু অসমের পাশেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং সেখানকার পেট্রোপণ্যের দাম অনেকটাই বেশি। পশ্চিমবঙ্গের পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১০৪.৬৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮৯.৭৯ টাকা। ফলে বঙ্গবাসী পড়েছে বিপাকে। নিজের রাজ্যে বেশি টাকা দিয়ে পেট্রোল এবং ডিজেলের কিন্তু একেবারেই ভাল লাগছে না কারোর। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল এবং ডিজেল কেনার জন্য অনেকেই পরবর্তী রাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সীমান্ত সংলগ্ন যাদের বাড়ি, তাদের মধ্যে অনেকেই পেট্রোল এবং ডিজেল কেনার জন্য চলে যাচ্ছেন অসমে।

এনাদের মধ্যেই রয়েছেন বাংলা আসাম সীমান্তে মহিশকুচি এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক আলী মিয়া। তিনি সম্প্রতি তাঁর কৃষিকাজের জন্য ৫০ লিটার ডিজেল কিনে নিয়ে আসেন আসাম থেকে। বাংলা থেকে প্রায় ৪৫০ টাকা কম দিয়ে পেয়ে যান একই পরিমাণ ডিজেল। বলাই বাহুল্য, এই সুযোগ হাতছাড়া করবে এমন বোকা কেউ নেই। তাই কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে বসবাসকারী বেশিরভাগ বাসিন্দা আসাম মুখো হচ্ছেন পেট্রোল এবং ডিজেল কেনার জন্য। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কেন্দ্রের বিরোধিতা করার জন্য নিজের রাজ্যের মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে কিনা তা ভোট হলেই বোঝা যাবে।