আন্দামান সাগরে ঘনীভূত হচ্ছে নিম্নচাপ, আগামী 48 ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত সহ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা..

শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কাই সত্যি হলো। প্রথমে 11 মে আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে কিছুদিনের মধ্যেই শক্তিশালী নিম্নচাপ আসতে চলেছে। বঙ্গোপসাগরে এই শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এই নিম্নচাপ ধীরে ধীরে বাংলার দিকে আসবে কীনা সেই দিক পর্যবেক্ষণ করে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। হাওয়া অফিসের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হয়েছে এই শক্তিশালী নিম্নচাপ।

আগামী 48 ঘণ্টার মধ্যে এই নিম্নচাপ আরো গভীর হয়ে যাবে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে। এরপর আগামী 48 ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ 16 মে এই নিম্নচাপ দক্ষিণ পশ্চিম এবং পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে এসে বড়োসড়ো ঘূর্ণিঝড়ের পরিণত হবে। এরপর ধীরে ধীরে এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকে যেতে থাকবে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দপ্তর অফিসের তরফ থেকে। এছাড়াও আবহাওয়া দপ্তরের  থেকে জানানো হয়েছে, 16 ই মে এরপর থেকে এই নিম্নচাপ যখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে থাকবে সেই সময়টায় বাংলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়।

কিছুদিন আগেও একটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভবনা ছিল। কিন্তু তা ততটাও ঘনীভূত হতে পারে নি। তার অভিমুখ হতো মায়ানমারের দিকে। কিন্তু এবার আশঙ্কার কথা যে ঘূর্ণিঝড়টি ঘনীভূত হলে তার গতিমুখ বাংলার দিকে হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সন্নিহিত সুন্দরবন উপকূলের কোথাও তা আছড়ে পড়তে পারে। দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপের প্রস্তুতি পর্ব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এটিই ঘনীভূত হতে হতে শেষমেশ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 16 তারিখ এই নিম্নচাপ টি যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় তাহলে এর নাম দেওয়া হবে আমফান। কারণ এই সিজনের এটি হচ্ছে প্রথম সাইক্লোন।

তবে এই নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করে নেই তার দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া দেখলে স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। সকাল থেকেই প্রত্যেকটি জেলায় রয়েছে প্রচন্ড গরম।কলকাতাতেও ঠিক একই অবস্থা রয়েছে। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল 28.1 ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে 2 ডিগ্রি বেশি। এর আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল 37.4 ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে দু ডিগ্রী বেশি। স্বাভাবিকের থেকে হু হু করে বাড়ছে গরমের মাত্রা। তবে সামান্য স্বস্তি পাওয়ার জন্য ছিটে ফোঁটা বৃষ্টি হয়েছে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকার জন্য 24 ঘন্টার মধ্যে কলকাতাতে ছিটে ফোঁটা বৃষ্টিও দেখা গেছে। তবে  মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার মতো বৃষ্টিপাত এখনো হয়নি।

Related Articles

Close