ঐতিহাসিক সিধান্ত!ব্রিটিশ সুরকে ছুঁড়ে ফেলে এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে বাজবে ভারতীয় শঙ্খ!

দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি একের পর এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। তিনি আর কেউ না ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার 70 তম প্রজাতন্ত্র দিবসে আজ 26 শে জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক প্যারেড উদ্বোধন করতে চলেছেন তিনি। আজকের প্রজাতন্ত্র দিবস 70 তম বছর পূর্ণ হতে চলেছে তাই মোদি সরকার চাইছেন এই দিনটিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবে পালন করতে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান লড়াই ছিল জোর করে ইংরেজদের চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা থেকে মুক্তির লড়াই। যদিও ভারত এখন ব্রিটিশদের শাসন ভার থেকে মুক্ত পেয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে তবুও এখনও কিছু কিছু জায়গায় ভারতীয়রা নিজের সংস্কৃতি সভ্যতা সম্পূর্ণরূপে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়নি।


যার উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ব্রিটিশরা ভারতে এসে কিছু নিয়ম লাগু করেছিল যার মধ্যে অন্যতম ছিল ইংরেজি শিখলে চাকরির ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা স্বাধীন ভারতের সেই নিয়মকে এখনো আমরা পূর্ণ ভাবে বর্জন করতে পারিনি। যদিও মোদি সরকার আসার পর থেকে ইংরেজদের তৈরি করা কিছু কিছু নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন ভারতীয় সংস্কৃতির পুনরুদ্ধারের জন্য জোর দিয়েছেন। আপনারা হয়তো এটা লক্ষ্য করেছেন যে এতদিন প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে বাহিনীর কুচকাওয়াজে বাজত ব্রিটিশ সুর। তবে এবার থেকে মোদি সরকারের প্রচেষ্টায় প্রজাতন্ত্র দিবসে বাজতে চলেছে শঙ্খনাদ। এতদিন ধরে স্বাধীন ভারতে ব্রিটিশ অনুশাসিত মার্শাল সংগীত বেজে আসতো কিন্তু মোদি সরকার তার অবসান ঘটিয়ে আজই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত শঙ্খনাদ কে উদ্বোধন করতে চলেছেন।

 

 

স্বাধীন ভারতে এই প্রথমবার ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সংগীত শোনা যাবে প্রজাতন্ত্র দিবসে। বৈরভী, কিরভানি ও বিলাশখানি রাগের সংমিশ্রণ রয়েছে এই সুরের মধ্যে। আপনাদের সুবিধার্থে বলে দি, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার বিবেক সোহেল “দেশ কো আঁচ না আয়ে” এই গানটি লিখেছেন। আর এই সঙ্গীতের সুরকার দিয়েছেন নাগপুরের বাসিন্দা তনুজা নাফয়েড। সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তনুজা বলেছেন যে এই গানটির সুরকার দেওয়া ছিল খুবই একটি কঠিন পরীক্ষা মতো, তবে তিনি সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। এবং তিনি আরো বলেন তিনি এই জন্য ভীষণ খুশি তার এই গানটি দেশের জন্য কাজে লাগবে। এতদিন পর্যন্ত সেনার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা এই গান তৈরির কাজ গুলো কিন্তু এই প্রথমবার সেনার বাইরে কেউ এই সুযোগ পেলেন।

 

এখনো পর্যন্ত সেনাতে পশ্চাত্য গান এর প্রচলন ছিল। স্বাধীনতার পর থেকে ওয়েস্ট এন্ড মিউজিক ব্যবহার করা হতো সেনাবাহিনীতে তবে নরেন্দ্র মোদী প্রচেষ্টায় এই প্রথমবার দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী ভারতীয় মিউজিক বাজানো হবে। এই গানটি তৈরি করার জন্য 36 জন শিল্পী ব্যবহার করা হয়েছে যেটি নাফয়েড খুব কম সময়ের মধ্যে এই শিল্পীদের অভ্যাস করিয়ে তৈরি করেছেন। তবে এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে থাকছে বেশ কিছু চমক। ভারতীয় নারী শক্তি এবার প্রদর্শন করতে চলেছে প্রজাতন্ত্র দিবসে।

 

এছাড়া ভারতীয় নারী শক্তি এবার এই প্রজাতন্ত্র দিবসে বাইক স্ট্যান্ড এবং বিভিন্ন কলাকৌশল অনুষ্ঠান করবেন বলে জানতে পারা গেছে। তাছাড়াও আপনাদের বলে দি এই প্রথম বছর যেখানে আজাদ হিন্দ বাহিনীর 90 বছরের অধিক 4 জন সেনাকে এই প্যারাডে যোগ করা হবে। তাই বলা হচ্ছে ভারতের আজকের এই প্রজাতন্ত্র দিবস ইতিহাসের পাতায় এক ঐতিহাসিক দিন হিসাবে গণ্য থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close