এবার প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা যুবকের, আর তারপর যা ঘটলো…

প্রেম আসলেই অন্ধ এবং তা কোন সীমানা মানতে পারে না তা আবারো প্রমাণিত হল এবার ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে। এবার ভারতের মহারাষ্ট্রের ওসামাবাদের বাসিন্দা 20 বছরের যুবক যার নাম সিদ্দিকী মহম্মদ জিশান, তিনি পাকিস্তানের করাচিতে থাকা এক যুবতীর প্রেমে পড়েছিলেন। এই দুজনের ফেসবুকে পরিচয় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথাবার্তা হতো, তবে কোনদিনও দেখা হয়নি সামনা সামনি তাই এবার এই যুবক পরিকল্পনা করে ওই যুবতীর সাথে মুখোমুখি দেখা করার।

তবে এই মুহূর্তে দেশজুড়ে লকডাউন সেহেতু বন্ধ রয়েছে ট্রেন-বাস সহ একাধিক পরিবহন ব্যবস্থা যার দরুন এই যুবক 11 তারিখ মোটর সাইকেলে করে মহারাষ্ট্রের ওসামাবাদ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পাকিস্তানের করাচিতে পৌঁছবার জন্য ওই যুবক গুগল ম্যাপ এর সাহায্য নিয়েছিল। আর 1200 কিলোমিটার বাইক চালিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন পাকিস্তান সীমান্তের বেশ কাছেই। তবে হঠাৎ করে বাড়ি ছেড়ে এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়াতে বাড়ীর লোক নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করেন।

তবে পরবর্তীকালে পুলিশের তরফ থেকে যখন এই ঘটনাটি তদন্ত করা হয় তখন পুলিশের হাতে জিশানের সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক তথ্য বেরিয়ে আসে এবং সেখান থেকেই পুলিশ জানতে পারে তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন করাচির একটি মেয়ের সাথে দেখা করতে। যদিও ওই যুবক পৌঁছে গিয়েছিল গুজরাটের কচ্ছ এলাকায় যেটি পাকিস্তান সীমান্তের খুবই কাছেই তবে সেই সময়েই ঘটল এক বিপত্তি। গুজরাত হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন ওসামাবাদের এই যুবক সিদ্দিকি মহম্মদ। কচ্ছের রণ এলাকায় পৌঁছেও গিয়েছিলেন।

কিন্তু এই গ্রীষ্মে শরীর আর সঙ্গ দেয়নি তাঁর। সীমান্তের কাছেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সিদ্দিকি মহম্মদ জিশান। আর সেখান থেকেই তাঁকে উদ্ধার করে বিএসএফ জওয়ানেরা। ভর্তি করা হয় স্থানীয় হাসপাতালে। এক্ষেত্রে তার মোবাইল ফোন রেকর্ড করে পুলিশের তরফে জানা যায় এই যুবকটি বর্তমানে গুজরাটের কচ্ছে রয়েছে আর তারপর তখন যোগাযোগ করা হয় গুজরাট পুলিশের সঙ্গে খবর পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বিএসএফের কাছেও। সেখান থেকেই স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রেমিক সিদ্দিকিকে।