কড়া আইন আনছে মোদী সরকার এবার প্রতিটি বিদেশি সামগ্রীতে উল্লেখ থাকতে হবে দেশের নাম, নইলে…

গালওয়ান উপত্যকাতে ভারত চীনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধার পর থেকে ভারত সরকার চীনকে জব্দ করতে একাধিক পদ্ধতি অবলম্বন করছে। ভারতীয় সেনাদের ওপর এই ভাবে চীনা সৈনিকদের হামলার পর থেকে গোটা ভারত জুড়ে একাধিক চীনা পণ্য বয়কটের ডাক উঠেছে। তবে শুধু তাই নয় এবার ভারত সরকারও চীনকে জব্দ করতে একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে যেখানে এই মুহূর্তে একাধিক চীনা পণ্য ভারতে ইতিমধ্যে আমদানি করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভারতের মধ্যে অতি প্রচলিত চীনা অ্যাপ যেমন Tik Tok, UC browser, Helo সহ আরো 59 টি মোবাইল অ্যাপ ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে ভারত সরকার চীনকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে “ডিজিটাল স্ট্রাইক”(digital strike) শুরু করে দিয়েছে। তবে শুধু চীনকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই নয় বর্তমানে সরকারের তরফ থেকে যে অ্যাপ গুলি ব্যান করে দেওয়া হয়েছে সেগুলি দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও দেশের সুরক্ষার জন্য অতি আবশ্যক ছিল।তাছাড়া সীমান্তে ইন্দো-চীন সমস্যার জেরে ভারতে বাতিল করা হয়েছে চীনের একাধিক টেন্ডার।আর এবার ecommerce site গুলিতেও চীনা পণ্যের বিক্রি বন্ধের চেষ্টায় কৌশলী পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার (Indian Government)।

আর ভারতের নতুন ই-কমার্স বিধিতে অন্তত এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বর্তমানে। এখানে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জানতে পারা যাচ্ছে এই বিষয়ে কেন্দ্রে তরফ থেকে তৈরি করা হয়েছে একটি 15 পাতার লম্বা খসড়া যেখানে রয়েছে একাধিক নিয়ম বদল কথার উল্লেখ।এই নিয়ম বদল করার মূলত দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল মহল যা মনে করছে, এক্ষেত্রে Amazon, Google alphabet Inc এর মতো টেক জায়ান্টের অধিপত্য কমিয়ে ই-কমার্স প্লাটফর্মে নিয়ন্ত্রণ পাওয়া এবং ঘুরে পথে ই-কমার্স প্লাটফর্মে চীনা পণ্যের বিক্রিতে লাগাম দেওয়া।

তবে শুধু তাই নয় এ বিষয়ে একটি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে যারা এক্ষেত্রে এই সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি রাখবে। এক্ষেত্রে সংস্থাগুলির কাছে থাকবে সমস্ত রকম তথ্য। আর তার পাশাপাশি 72 ঘণ্টার মধ্যে ই-কমার্স সংস্থাগুলির দেশীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য দিতে হবে। আর এক্ষেত্রে যে নতুন নিয়মটি আসতে চলেছে সেখানে eCommerce platform গুলিতে যে সকল পণ্য বিক্রি হবে সে সকল পণ্যগুলির উৎপাদক, বিক্রেতার ঠিকানা, ফোন নাম্বার, অভিযোগ জানানোর নম্বর ইত্যাদি বিস্তারিত ভাবে জানাতে হবে।তার পাশাপাশি যে সকল বিদেশী পণ্যগুলি রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে ওই পণ্য তৈরিতে কাজ ভারতে কতটা হয়েছে তাও বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে এই ই-কমার্স সংস্থাগুলি তে।গ্রাহক মামলায় মন্ত্রালয়ের সচিব লীলা নন্দন বলেছেন, যদি কোন কোম্পানি এই নিয়মের পালন না করে, তাহলে প্রথমবার তাদের 25 হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার 50 হাজার টাকা আর এরপর কোম্পানিকে এক লক্ষ টাকা অথবা এক বছরের জেলের সাজা হবে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুটোই হতে পারে।

যার ফলে এক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে চীনা উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।আর এক্ষেত্রে যদি ভারতের চীনা পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বাধা না থাকলেও চীনা সংস্থার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভারতীয়রা মুখ ফেরালে বড়োসড়ো লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এক্ষেত্রে চীনা উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের এমনটাই জানতে পারা যাচ্ছে।