কেন্দ্রের আবার বড় ঝাটকা চীনকে! এবার চীনের সাথে 2,900 কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করল কেন্দ্র…

চীনের সেনারা গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনাদের উপর হামলা করার পরেই ভারতের তরফ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় চীনকে। যেমনটা বলা হয়েছে কাজও ঠিক তেমনটা করতে শুরু করে দিয়েছে ভারত। সমস্ত দিক থেকে চীনকে চাপে ফেলার জন্য প্ল্যান কষছে ভারত। ইতিমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে চীনকে একেবারে কোণঠাসা করার জন্য ভারতের চীনা পণ্য বয়কটের দাবি উঠেছে। চীনকে অর্থনৈতিকভাবে কোনঠাসা করার জন্য আরও একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে।

বিহারের একটি ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য টেন্ডার বাতিল করে দিল কেন্দ্র। কারণ এই ব্রিজটি নির্মাণ কাজের সঙ্গে দুটি চিনা সংস্থা যুক্ত ছিল। আপনাদের জানিয়ে দিই, কেন্দ্রের তরফ থেকে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বিএসএনএল এবং এমটিএমএলের মতো টেলিকম সংস্থাগুলিকে চীনা পণ্য ব্যবহার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এরপরে পরিকাঠামো যুক্ত চীনা সংস্থাগুলির ওপর আঘাত আনা শুরু করেছে কেন্দ্র।

বিহার সরকারের এক আধিকারিক এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে, গঙ্গা নদীর উপর ব্রিজ তৈরি করার কথা হয়েছে তাতে মোট চারটি সংস্থাকে নিয়োগ করা হয়েছিল। আর এই চারটি সংস্থার মধ্যে দুটি সংস্থা রয়েছে চীনের। তাই এখন এই টেন্ডার বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ব্রিজ নির্মাণের এই প্রকল্পটিতে মোট খরচ ধরা হয়েছিল 2900 কোটি টাকা। এই পুরো প্রকল্পটির মধ্যে ছিল, 5.6 কিলোমিটার লম্বা ব্রিজ, এর সাথে রেল ওভারব্রিজ সহ আরও অন্যান্য ছোট ছোট ব্রিজ। প্রসঙ্গত 2019 সালের 16 ডিসেম্বর বিহারে এই ব্রিজ তৈরি করার ওপর ছাড়পত্র দেয় কেন্দ্রের মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি।

এতদিন পর্যন্ত সমস্ত কিছু ঠিক ছিল কিন্তু গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনাদের হামলার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। গঙ্গার ওপরে মহাত্মা গান্ধী সেতু সমান্তরালে ওই ব্রিজটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল । এই ব্রিজটি তৈরি হয়ে গেলে বৈশালী, সারান এবং পাটনা জেলার মানুষজনরা উপকৃত হতেন। কিন্তু এখন এই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ব্রিজটি তৈরির পাশাপাশি আরও তৈরি হওয়ার কথা ছিল চারটি আন্ডারপাস, 1.58 কিলোমিটার লম্বা রাস্তা, একটি ফ্লাইওভার, পাঁচটি বাস স্ট্যান্ড, 13 টি রোড জাংশন এবং চারটি ছোট ব্রিজ। এই পুরো প্রকল্পটি 2023 সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।