এবার করোনা প্রতিরোধে প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রকেই মান্যতা দিল কলকাতা হাইকোর্ট…

করোনা কার্যত গোটা বিশ্বকে কাবু করে রেখেছে। যত দিন যাচ্ছে এই ভাইরাস ততোই ভয়ানক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে মানবদেহে। ফলে কোন পথে চিকিৎসা করলে এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে সেই সম্পর্কে হাতরে বেড়াচ্ছে চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীমহল। তবু এখনো পর্যন্ত কুল পাচ্ছে না সারা বিশ্ব। আর এমনি সময়ে কলকাতা হাইকোর্ট আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর ভরসা রাখল।কেন্দ্র সরকারের যে আয়ুশ প্রটোকল রয়েছে তার দ্বারা নাকি মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে বলে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

এই প্রটোকল এর মধ্যে কতকগুলি খাবারের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে আমাদের। যেমন, সারাদিনভর উষ্ণ গরম জল। প্রত্যেকে প্রতিদিন অন্তত 30 মিনিট করে যোগাসন বা ব্যায়াম করতে হবে। হলুদ, জিরে, রসুন, গোলমরিচ, ধনিয়ার মতন খাদ্যদ্রব্যের বেশি ব্যবহার করতে হবে। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ভারতীয় সুপ্রাচীন আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রের সাহায্য নিতে হবে বলে মনে করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। এ বছরই 20 মে চাইল্ড কেয়ার হোম গুলিতে ছোঁয়াচে এড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে মামলা করেছিল হাইকোর্ট।

তারপরেই এই ডিভিশন বেঞ্চ হোমের শিশুদের জন্য এই সুরক্ষা কীভাবে দেওয়া যায় সেই সম্পর্কে জানতে চাই। শুধু তাই নয় এই মামলায় বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা বিভিন্ন পরিযায়ী শ্রমিকদের শিশুদের স্বাস্থ্যের পরিস্থিতির কথা জানতে চাই বিচারপতি সৌমেন সেন এবং আরেক বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডেনের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের মহিলা এবং শিশু কল্যাণ দপ্তর এর রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে, গোটা রাজ্যের সমস্ত ক্যাম্প মিলিয়ে মোট 3052 জন শিশু রয়েছে। এবং ওই ক্যাম গুলিতে সমস্ত শিশুরা যাতে সঠিক খাবার পায় এবং তাদের স্বাস্থ্য যাতে ঠিক থাকে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে সে সমস্ত শিশুগুলির শারীরিক অবস্থা কেমন রয়েছে তা এখনো পর্যন্ত জানানো হয়নি। এরপর বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সমস্ত রাজ্যের জেলা শাসকদের নির্দেশ দেয়, তাদের সংশ্লিষ্ট জেলায় কতজন পরিযায়ী শ্রমিকদের শিশু রয়েছে তার একটা তালিকা তৈরি করে দিতে। এছাড়াও তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন রয়েছে তারও রিপোর্ট মহিলা ও শিশু কল্যাণ দপ্তর কে দিতে বলা হয়। এরপর ওই ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, যেহেতু এখনও পর্যন্ত করোনার কোন ওষুধ বের হয়নি তাই আমাদের এই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রকে মেনে চলতে হবে। এর ফলে আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যাবে যা করোনা প্রতিরোধের জন্য মূল দেওয়ায়।

শুধুমাত্র শিশুদের জন্যই নয় এমনি সাধারণ মানুষ কেউ এই প্রটোকল মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এমন মন্তব্যের পর নবীন আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সুস্মিতা বেরা জানিয়েছেন, ‘এই কঠিন পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া আমাদের কাছে আর কোন উপায় নেই। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমরা যদি বাড়াতে না পারি তাহলে এই ভাইরাস আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।