দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেও কঠিন পরিস্থিতির সামনে রয়েছে মানব সভ্যতা, সতর্ক করল রাষ্ট্রসংঘ….

করোনাভাইরাস (COVID-19) এর জেরে সারাবিশ্ব নাজেহাল। একাধিক দেশে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুমিছিল অব্যাহত রয়েছে। এই করানো ভাইরাসকে ঠেকাতে সমস্ত দেশ তাদের সমস্ত রকম প্রচেষ্টা করছে তবুও কার্যকর হচ্ছে না। বর্তমানে ভারতে 21 দিনের লকডাউন চলছে এই করোনা ভাইরাসকে ঠেকানোর জন্য।বিশেষজ্ঞদের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের থেকেও খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে এখন বিশ্ব। মানব সভ্যতাকে যেন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে এই মরণ ভাইরাস। সারা বিশ্বের অর্থনীতি এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জানান, এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি এর আগে কখনো পড়েনি বিশ্ব। রিপোর্ট অনুযায়ী গোটা বিশ্বে 8 লক্ষ 60 হাজার COVID-19 এ আক্রান্ত হয়েছেন। এবং এই ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা ইতিমধ্যে 42 হাজার ছাড়িয়ে গেছে।বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলিতে করোনাভাইরাস গ্রাস করে নিয়েছে পুরোপুরিভাবে। উন্নত দেশগুলি পর্যন্ত এই ভাইরাসকে ঠেকাতে অসমর্থ হয়েছে। করোনার জেরে সারাবিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব। এরপর আবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব এর এই সতর্কবার্তা।

সব মিলিয়ে যে সারা বিশ্বের অবস্থা খুবই শোচনীয় তা বোঝার বাকি নেই। এমন কী প্রথম বিশ্বের দেশগুলি তে অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। সেখানকার রাষ্ট্রপ্রধানরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে গুতেরেস আরও জানিয়েছেন, নয়া এই মরণ ভাইরাস মানুষের প্রাণ কাটছে তা নয়, আগামী প্রজন্মকেও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কারণ এইসময় অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে তার ফল ভুগতে হতে পারে আগামী প্রজন্মকে।

ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি রিপোর্ট সামনে এসেছে তাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই মহামারী ছেড়ে বিশ্বের অর্থনীতিতে যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাতে কমপক্ষে 2.5 কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে। এমনকি বিদেশী বিনিয়োগের 40 শতাংশ ঘাটতি হতে পারে। যা উন্নত দেশগুলির পরিকাঠামো একেবারে ভেঙে দিতে পারে। তিনি এও জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সংঘ স্থাপন করার পর এই করোনাভাইরাস প্রথম কোনো পরীক্ষার মুখে ফেলেছে সারাবিশ্বকে। এই মহামারী বিরুদ্ধে লড়তে প্রত্যেকটি দেশকে একযোগে কাজ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন মহাসচিব।

Related Articles

Back to top button