আবারও বড় ঝটকা খেলো চীন, ভারতের পর এবার আমেরিকান সরকারও ব্যান করতে চলেছে চাইনিজ অ্যাপ..

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলা করা ও গোটা বিশ্বজুড়ে মরণ ভাইরাস COVID-19 ছড়ানোর পর থেকেই সারা বিশ্বের কাছে ক্রমশ একঘরে হয়ে যাচ্ছে চীন। ওই ঘটনার পর অন্যান্য দেশগুলির চীনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। চীনকে কড়া জবাব দেওয়ার জন্য ভারতের পাশে যে আমেরিকা রয়েছে তা এর আগে জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকা । এছাড়াও এই ঘটনা ঘটার আগে থেকেই আমেরিকার সাথে চীনের দ্বন্দ্ব চলছিল। আমেরিকার সাথে চীনের এই দ্বন্দ্ব চলার প্রধান কারণ হল বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা।

মার্কিন মুলুকে চীনা কোন বিমান ঢোকা নিয়ে এর আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। এবার এই সমস্ত কিছুর পর চীনকে কড়া জবাব দেওয়ার জন্য ভারতের নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথ ধরেই হাঁটতে রাজি আমেরিকা। সোমবার রাতে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত সরকার যেমন জনপ্রিয় টিকটক মোবাইল অ্যাপস সহ আরো কয়েকটি চীনা অ্যাপ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেমনি এবার এই সিদ্ধান্ত আমেরিকাও নিতে চলেছে। এই সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করে দেখছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাইক জানান, টিকটক সহ আরো কয়েকটি চীনা জনপ্রিয় অ্যাপ নিষিদ্ধ করার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এখন সেই ভাবে জানানো হচ্ছে না তবে চীনকে শায়েস্তা করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই দিকটা নিশ্চয়ই ভেবে দেখেছে। সুতরাং এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। প্রসঙ্গত কয়েক দিন আগেই চীনকে অর্থনৈতিক দিক থেকে আঘাত দেওয়ার জন্য ভারতে চলতে থাকা 59 টি চীনা অ্যাপ গুলিকে দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার।

টিকটক, ক্যামস্ক্যানার, হ্যালো, শেয়ারইট, ইউসি ব্রাউজার সহ আরও অন্যান্য অ্যাপ গুলি প্রবল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল ভারতে। যদিও এই প্রত্যেকটি অ্যাপের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচার করার মত অভিযোগ ছিল বহুদিন ধরেই। আমরা হয়তো অনেকেই জানি এর আগে চীনা সংস্থা হুয়াইয়ে এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিল আমেরিকা। তারা দাবী করেছিল এই সংস্থা পুরোপুরি অস্বচ্ছ সংস্থা। এই সংস্থা ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচার করে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে কথা অনুসারে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাচার করে বলে হুয়াইয়ে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে আমেরিকা।

তবে যাই হোক এই সমস্ত অ্যাপগুলি চীনকে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেকটা শক্তিশালী করে তুলছে দিনের পর দিন। তাই চীনকে অর্থনৈতিক দিক থেকে মেরে ফেলার জন্য এই সিদ্ধান্ত যে একেবারে কার্যকর তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। আর চীনকে যদি অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল করে দেওয়া হয় তাহলে চীনের সামরিক শক্তি ও দুর্বল হয়ে পড়বে।

Related Articles

Back to top button