কেন্দ্রের তরফে জারি করা নতুন প্রকল্পের দরুন এবার উপকৃত হবে দেশের 50 লক্ষ দোকানদার..

করোনার জেরে গত মার্চ মাসের 23 তারিখ থেকে চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউন এর ফলে সারা দেশে অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে।এছাড়া ও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে এই লকডাউন এর ফলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুটপাতের দোকানদার রা। খুব কম করে হলেও দুই মাসের বেশি সময় ধরে তাদের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ওই সমস্ত দোকানদাররা কীভাবে দুবেলা-দুমুঠো খাবার জোগাড় করবে তা ভেবেই কেটে যাচ্ছে সারাদিন।

যা টাকা জমিয়েছিল এখন খেতে-পরতে তা চলে গেছে নতুন করে ব্যবসা শুরু করবার মতো আর টাকাও নেই তাদের কাছে। আর এবার এই সমস্ত মানুষদের কথা ভেবে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। 1 জুন থেকে পঞ্চম দফার লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে এই পঞ্চম দফার লকডাউনে অনেক কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। তাই এই লকডাউন এর নাম দেওয়া হয়েছে আনলক ফেজ 1 । সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি।

এরপর বৈঠক শেষ হয়ে গেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্পমন্ত্রী নীতিন গডকড়ি। এবং তিনি এদিন বলেন, ফুটপাতের দোকান দারদের জন্য 10 হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবং তিনি এও জানান এই লকডাউনের পরে যাতে ফুটপাতের দোকানদাররা আবার নতুন করে তাদের ব্যবসা শুরু করতে পারে তার জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তরফ থেকে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী স্টিট ভেন্ডর্স আত্মনির্ভর নিধি’ । এই প্রকল্পের দরুন ফুটপাতের দোকানদার থেকে শুরু করে ঠেলা গাড়ি নিয়ে বসা দোকানদাররাও ঋণ পাবেন।

এই প্রকল্পের ফলে প্রায় 50 লক্ষ দোকানদার উপকৃত হবেন বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন। এই প্রকল্পের ফলে তারা আবার নতুন করে তাদের ব্যবসা শুরু করতে পারবে। এদিন ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং ছোট শিল্পের যে মূলধনের সীমা ছিল সেটি বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। এতদিন পর্যন্ত 25 লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূলধনের শিল্প গুলিকে ক্ষুদ্র শিল্প বলা হতো এবং 5 কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনের শিল্প গুলি কে ছোট শিল্প বলা হতো আর 50 কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনের শিল্প গুলিকে মাঝারি শিল্প বলা হত।

এবার থেকে 1 কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনের শিল্পকে বলা হবে ক্ষুদ্র শিল্প এবং ছোট শিল্পের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি বেড়ে হয়েছে 10 কোটি আর মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি হয়েছে 50 কোটি। এছাড়াও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় বেড়েছে 5 কোটি এবং ছোট শিল্পের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় বেড়েছে 50 কোটি আর মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে 250 কোটি। এ নিয়ে নীতিন গডকড়ি জানান, কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দু’লক্ষ ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্প উপকৃত হবে।