দেশনতুন খবরবিশেষ

করোনা ভাইরাসের মধ্যে আবারও নতুন এক আতঙ্ক, এবার ভারতের ‘সোয়াইন ফ্লু’ দরুন আক্রান্ত 2,721 জন…

করোনা সংক্রমণ যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে দেশবাসীর জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্ষুদ্র ভাইরাস মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। গত 24 ঘন্টায় আমাদের দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে 55 হাজারেরও বেশি মানুষ। করোনার কাছে হেরে গেছেন 876 জন মানুষ। কিন্তু কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর যে গত 24 ঘন্টায় করোনা ভাইরাসকে হার মানিয়ে সুস্থ হওয়ার দিক থেকে এবং করোনার পরীক্ষা করার দিক থেকে ভারত রেকর্ড করেছে।

গত 24 ঘন্টায় অর্থাৎ এক দিনে প্রায় 9 লাখ করোনা টেস্ট হয়েছে ভারতে। একদিকে যেমন করোনা মোকাবেলায় দেশবাসীর নাজেহাল অবস্থা অপরদিকে আরেকটি নতুন আতঙ্ক জুড়ে বসলো দেশে। এই আতঙ্কের নাম হল “সোয়াইন ফ্লু”।জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক খবর অনুসারে জানা গিয়েছে, এখনো পর্যন্ত 2721 টি ঘটনা সামনে এসেছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন 44 জন মানুষ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এর তথ্য অনুসারে, জুলাই মাসের 31 তারিখ পর্যন্ত মোট 2721 টি ঘটনা রেজিস্টার্ড হয়েছে এবং সোয়াইন ফ্লুতে মারা গিয়েছেন মোট 44 জন।

খবর পাওয়া গিয়েছে যে, কর্ণাটক রাজ্যে সব থেকে বেশি এই “সোয়াইন ফ্লু”তে আক্রান্ত হয়েছে। এ রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা 458 জন। এরপরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তেলেঙ্গানা। এরাজ্যে সোয়াইন ফ্লুতে মোট আক্রান্ত হয়েছে 443 জন। এরপরে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি, এখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা 412 জন। এরপর চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু এবং উত্তর প্রদেশ, এই দুটি রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে 253 এবং 252। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, প্রথমে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা শূকরের দেহে আগে দেখা যায়।

তবে বর্তমানে সর্দি কাশির মাধ্যমে তা মানুষের দেহ ছড়িয়েছে। তারা এও জানিয়েছেন যে, স্ট্যান্ডার্ড এবং সিশন্যাল ফ্লুর উপসর্গগুলি মধ্যেই পুরোপুরি মিল রয়েছে। শীত-শীত ভাব, গলাব্যথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা এই সমস্ত উপসর্গগুলি দ্বারা থাবা বসাতে পারে এই ফ্লু। তাই এক্ষেত্রে সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি হল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য। তাই বিশেষজ্ঞরা গর্ভবতী মহিলাদের  খুব সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও 5 বছর বয়সের নিচে শিশুদের এবং বয়স্ক মানুষদের সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটা মানুষকে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করেই চলতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ করোনা এবং এই সোয়াইন ফ্লুর উপসর্গ গুলি প্রায় একই রকম। তাই সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে প্রত্যেকটা মানুষকে।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, করোনার পরীক্ষা করার পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জার পরীক্ষা করতে হবে। কারণ এই দুটি উপসর্গ সেম তাই বোঝা খুব কঠিন। এবং যে সমস্ত মানুষের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা রয়েছে তাদেরকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিয়ে নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, বারেবারে হাত ধোঁয়া  সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পড়া এই সমস্ত কিছু মেনে চলতে হবে প্রত্যেকটা মানুষকে।

Related Articles

Back to top button